Agnimitra Paul on Cycle Factory: ২৫ বছর আগে বন্ধ কারখানায় ভোঁ বাজবে আবার? ‘সারথি’র চাকায় ভর করে বড় স্বপ্ন দেখালেন অগ্নিমিত্রা
Sen-Raleigh bicycle factory: জমি ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেনরেল সাইকেল কারখানার ওই জমিতেই নতুন সাইকেল কারখানা গড়ার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হোক। এই দাবি জানান আসানসোলের বিধায়িকা। সেনরেলের বন্ধ জমিতে ফের চাকা ঘুরলে, তা গোটা আসানসোলের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক চিত্রে বড় বদল আনবে বলে আশাবাদী শিল্পাঞ্চলবাসীও।

আসানসোল: বন্ধ কারখানায় আবার কি বাজবে ভোঁ? আবার সকাল-বিকেল শয়ে শয়ে মানুষ কাজ করতে আসবেন? বহু দিন আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেনরেল সাইকেল কারখানা কি আবার খুলবে? বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সাইকেল কারখানাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চল আসানসোলে আবার নতুন করে শিল্পায়নের আশা জাগল। রাজ্যের ‘সারথি’ প্রকল্পের চাকা ধরে আসানসোল কি তবে ফিরবে পুরোনো মেজাজে? পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যে এই জল্পনা চরমে।
আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বল্লভপুর রামগোপাল সরাফ বিদ্যাপীঠ স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে সারথি প্রকল্পের বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আসানসোলকে পুনরায় সাইকেল তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জোর সওয়াল করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি নিজেও সাইকেল চালিয়ে দেখেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে পাত পেড়ে খাবারও খান।
১৯৫২ সালে পথ চলা শুরু করা বিখ্যাত সেনরেল সাইকেল কারখানার ( Sen-Raleigh bicycle factory) ‘বলাকা’ ও ‘হ্যামার’ সাইকেলের এক সময় বিশ্বজুড়ে কদর ছিল। ২০০১ সালে এই কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও এর ঐতিহ্য ও পরিকাঠামো আজও অটুট।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কয়েকদিন আগেই বলেছেন যে ভিন রাজ্যে নয়, এই রাজ্যেই সারথি প্রকল্পের সাইকেল তৈরি হবে। সেই সূত্র ধরে আজ পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, “সাইকেল এগিয়ে যাওয়ার একটি অস্ত্র। আমার আশা, ছোট ছোট ভাইবোনেরা নিজেদের দরকারি কাজ করবে। এই রাজ্যে সাইকেল তৈরি হলে, আসানসোলে নয় কেন?”
জমি ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সেনরেল সাইকেল কারখানার ওই জমিতেই নতুন সাইকেল কারখানা গড়ার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হোক। এই দাবি জানান আসানসোলের বিধায়িকা। সেনরেলের বন্ধ জমিতে ফের চাকা ঘুরলে, তা গোটা আসানসোলের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক চিত্রে বড় বদল আনবে বলে আশাবাদী শিল্পাঞ্চলবাসীও।
সেনরেলে সাইকেল কারখানার প্রাক্তন কর্মী দিলীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “পরিকাঠামোর উন্নতি করতে হবে। কয়েক হাজার কোটি টাকার খরচ রয়েছে এই সবকিছু বদল করতে। মেশিন, মেটেরিয়াল আছে। যদি মুখ্যমন্ত্রী করতে পারেন, তবে আমি ওঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। কারখানা ফের চালু হলে এই এলাকার অর্থনীতির উন্নতি হবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ভালো হবে। আগের মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছে যাব আমরা। আমাদের সাইকেলের খুব ডিমান্ড ছিল। আমাদের সাইকেলের যখন ৮০০ টাকা দাম ছিল, তখন অন্য কোম্পানির সাইকেলের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা ছিল। বুঝতেই পারছেন কী চাহিদা ছিল।”
শিল্পী বন্দোপাধ্যায় এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সাইকেল কারখানা যদি আবার চালু হয়, তাহলে তো খুবই ভালো হয়। ছেলেরা এখানে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের একটা চাকরি হবে। একসময় এখানে সব ছিল, এখন কিছুই নেই।”
