AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Sheikh Hasina: দলেই ছিল ‘চার বিভীষণ’, শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছে তারাই!

Sheikh Hasina: ৫ অগস্ট হুট করে হাসিনা দেশত্যাগ করায় তাঁরা হতাশ, হতোদ্যম। আর একই সঙ্গে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দলেরই চার নেতার বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, এই ‘গ্যাং অব ফোর’-ই হসিনাকে ডুবিয়েছে। দেশের জনতার ক্ষোভ যখন বাকি আওয়ামি লিগ নেতারা টের পাচ্ছিলেন, সেই সময় এই চারজনই শেখ হাসিনাকে বাস্তব চিত্রটা টের পেতে দেননি। তাঁকে ভুল বুঝিয়েছিলেন।

Sheikh Hasina: দলেই ছিল ‘চার বিভীষণ’, শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছে তারাই!
ভগ্নহৃদয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনাImage Credit: AFP
| Updated on: Aug 23, 2024 | 3:51 PM
Share

ঢাকা: শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রায় ৩ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। কিন্তু, এখনও বাংলাদেশে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাঁর দল আওয়ামি লিগের নেতাদের। বিএনপি ও জামাতে ইসলামির প্রতিশোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় প্রায় সকলেই আত্মগোপন করে আছেন। তবে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও আওয়ামি লিগের বহু নেতা-মন্ত্রীকে আটক করেছে। হাসিনা-সহ বহু নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে হত্যা-অপহরণ-গণহত্যা-শিশুহত্যার মতো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৫ অগস্ট হুট করে হাসিনা দেশত্যাগ করায় তাঁরা হতাশ, হতোদ্যম। আর একই সঙ্গে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দলেরই চার নেতার বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, এই ‘গ্যাং অব ফোর’-ই হসিনাকে ডুবিয়েছে। দেশের জমতার ক্ষোভ যখন বাকি আওয়ামি লিগ নেতারা টের পাচ্ছিলেন, সেই সময় এই চারজনই শেখ হাসিনাকে বাস্তব চিত্রটা টের পেতে দেননি। তাঁকে ভুল বুঝিয়েছিলেন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার তরফ থেকে বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামি লিগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশই জানিয়েছেন, দেখা করা সম্ভব নয়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফোনে কথা বলতে পারেন। তবে, তারপরও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাঁদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে। আর তাতেই উঠে এসেছে এক অদ্ভুত কাহিনি। হতাশ আওয়ামি লিগ নেতারা প্রায় সকলেই মনে করছেন, শেখ হাসিনা তাঁর দল ও দেশের জনগণকে ত্যাগ করেছেন। এক আওয়ামি লিগ নেতা যেমন বলেছেন, ‘আপা আমাদের ছেড়ে গেছেন।’ আর এই হতাশার মধ্যে নির্বাচন না করার খেদ তাঁদের যাচ্ছে না।

তাঁরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যেভাবে সর্বস্তরে দুর্নীতি, তোলাবাজি, নির্যাতন, পুলিশের নিষ্ঠুরতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে যে দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা তাঁরা বুঝেছিলেন। কারণ, তাঁরা মাটির কাছাকাছি থেকে কাজ করতেন। এই আওয়ামি লিগ নেতাদের মতে, বিগত নির্বাচনে যদি বিএনপি-কে ভোটে লড়ার জন্য রাজি করানো যেত, তাহলে জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করা যেত। নির্বাচন হলে আওয়ামি লিগই ভোটে জিতত বলে এক প্রকার নিশ্চিত তাঁরা। আর সেই ক্ষেত্রে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্র-জনতার ক্ষোভ এই পর্যায়ে পৌঁছত না। আওয়ামি লিগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও বিস্মিত হয়েছিলেন। অনেকেই খবরটা জেনেছিলেন টেলিভিশন দেখে। ৫ অগস্ট যে হাসিনা হঠাৎ করে দেশ ছাড়বেন, সেই বিষয়ে তাঁদের কোনও ধারণাই ছিল না।

আওয়ামি লিগের এক নেতা জানিয়েছেন, নেত্রী ওই ভাবে দেশ ছাড়ায় চরম বিপদে পড়েছিলেন আওয়ামি লিগের নেতারা। লিগের এক নেতা জানিয়েছেন, ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর, তাঁরা শুধুমাত্র একটাই সময় পেয়েছিলেন বাড়ি থেকে বের হওয়ার। দুপুর তিনটেয় বাংলাদেশ সেনাপ্রধান যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, সেই সময় গোটা দেশের মানুষের চোখ ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। ওই সুযোগেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন একের পর এক আওয়ামি লিগ নেতা। তাঁদের মতে, ওই সময় না পলালে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারত উন্মত্ত জনতা।

আর এই সবটাই হয়েছে গ্যাং অব ফোরের জন্য। এমনটাই দাবি আওয়ামি লিগ নেতাদের। কারা এই চারজন? এই চার নেতা হলেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশের প্রাক্তন বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামি লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এই চারজন নিজেদের স্বার্থে হাসিনা সরকারকে ডুবিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই চারজনকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন হাসিনা। আওয়ামি লিগের বাকি নেতাদের, যাঁরা মাটিতে পড়ে থেকে কাজ করতেন, তাঁদের কথা শেখ হাসিনা শোনেননি। এই গ্যাং অব ফোর নিজেদের স্বার্থে হাসিনাকে বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা বুঝতে দেননি। এই চারজনের জন্য, এমনকি শেখ হাসিনা তাঁর সহজাত রাজনৈতিক প্রজ্ঞাও হারিয়েছিলেন বলে মনে করেন আওয়ামি লিগ নেতারা।

বিশেষ করে, বিনা নির্বাচনে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার পর আরও একগুঁয়ে জেদি হয়ে উঠেছিলেন হাসিনা। ওই চারজন ছাড়া কারও কথা কানে নেননি। কোটা সংস্কার নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার তীব্রতাই বুঝতে পারেনি তিনি। বিএনপি এক তত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচনে লড়তে চেয়েছিল। তা তিনি মানেননি। কোটা আন্দোলন শুরু হওয়ার পর, দলেরই কিছু নেতা হাসিনাকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাও তিনি মানেননি। উল্টে সামরিক গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের দিয়ে ছাত্রনেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়া, ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকে দমন করার রাস্তায় হাঁটেন। এটাই তাঁর কফিনে শেষ পেরেক ছিল বলে মনে করছেন আওয়ামি লিগ নেতারা।

Follow Us