Bangladesh Election Results: ফাঁসির করিকাঠে ঝুলছিল প্রাণ! তাঁরাই হচ্ছেন বাংলাদেশের সাংসদ…
Bangladesh Elections 2026: বাবরের মতো তিনিও ২০০৪ সালের ঢাকার গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড পান। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (Harkat-ul-Jihad-al-Islami) বা হুজি-কে সমর্থনের অভিযোগ ছিল।

ঢাকা: বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়। দুই দশক পর আবার দেশ শাসন করবে বিএনপি। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-ই-ইসলামি-এনসিপি-র জোটকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। তবে জামায়েতের ফলও বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। আগে কোনও নির্বাচনে এত আসন জেতেনি জামায়েত। বাংলাদেশের বিজয়ীদের তালিকায় চোখ বোলাতেই ধরা পড়ল এমন তিনজনের নাম, যারা একসময় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন, এখন তারাই সাংসদ হিসাবে বাংলাদেশের সংসদে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। এরা তিনজনই মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সাজামুক্ত হন। এদের মধ্যে দুইজনের বিরুদ্ধে আবার ভারতবিরোধী সন্ত্রাস মামলা ছিল।
এই তিনজন হলেন বিএনপি-র লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টু। রয়েছে জামাত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। হাসিনা সরকার এই তিনজনকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
লুৎফুজ্জামান বাবর-
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। সে সময় বিএনপি-জামাতের জোট ক্ষমতায় ছিল। ২০০৪ সালের ঢাকার গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৪ সালে বাবরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৫০০ জনের বেশি আহত হন। হামলার লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা। এছাড়া ২০০৪ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্র চোরাচালান মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৮ সালে তাঁকে দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করেছিল বাংলাদেশের পুলিশ ও কোস্টগার্ড।
তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ হাইকোর্ট অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বাবরকে নিরাপরাধ ঘোষণা করে। এবং দুই দিন পর তিনি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এবারের নির্বাচনে বাবর নেত্রকোনা-৪ আসনে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন।
আব্দুস সালাম পিন্টু-
বাবরের সহকর্মী, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ছিল। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
বাবরের মতো তিনিও ২০০৪ সালের ঢাকার গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৬ সালে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড পান। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি (Harkat-ul-Jihad-al-Islami) বা হুজি-কে সমর্থনের অভিযোগ ছিল। এই সংগঠনটি ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে যুক্ত। ২০০৬ সালে বারাণসী আদালত চত্বরে বিস্ফোরণ, ২০০৭ সালে আজমের শরিফ দরগাহ বিস্ফোরণ এবং ২০১১ সালে দিল্লিতে বোমা হামলার পিছনে হুজির হাত ছিল।
বাবরের মতোই ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আদালত তাঁকে সব অভিযোগ থেকে খালাস করে এবং জেল থেকে মুক্তি পান পিন্টু। এবারের নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-২ আসনে দাড়িয়েছিলেন। প্রায় ২ লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম-
জামাত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এবারের নির্বাচনে রংপুর-২ আসনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এর আগে ১৯৯৮, ২০০১ ও ২০০৬ সালে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
২০১২ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্তত ১,২৫৬ জনকে হত্যা ও ১৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০১৪ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ২০২৫ সালের ২৭ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সব অভিযোগ থেকে খালাস করে দেয়।
