
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হচ্ছে আরও একটা অধ্যায়। নির্বাচিত সরকার গঠন করছে বিএনপি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে তারা। দুই দশক পর ক্ষমতায় আসছে বিএনপি। নির্বাচনের আগেই বিএনপি জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। সেই কথাই সত্যি হতে চলেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। কে এই তারেক রহমান? কেনই বা তাঁকে বাংলাদেশের ডার্ক প্রিন্স বলা হয়?
বাংলাদেশের রাজনীতিও পরিবার কেন্দ্রিক। সবচেয়ে চর্চিত দুটি রাজনৈতিক পরিবার হল শেখ পরিবার ও জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম তাঁর। স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তৃতীয় সেনাপ্রধান হয়েছিলেন তিনি। এরপরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে আততায়ী হামলায় প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান।
অন্যদিকে, তারেকের মা খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ১৯৯১ সালে প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ওই বছরের মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন। দ্বিতীয় দফায় ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর কয়েক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তৃতীয় দফায় ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।
জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক। তারঁ জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। যদিও নির্বাচনী হলফনামার জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্মসাল ১৯৬৮ উল্লেখ রয়েছে। বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন তারেক। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথমে ভর্তি হন। তারপরে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তবে কলেজ পার করা হয়নি তাঁর। দ্বিতীয় বর্ষেই লেখাপড়ায় ইতি টেনে বস্ত্র ব্যবসা শুরু করেন।
অল্প বয়স থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তারেকের। ২০০০ সালের শুরুর দিকে তার মা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিএনপিতে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। একসময় বিএনপি-র যুবরাজ বলা হত তাঁকে। খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হত। ২০০০ সালের পর থেকে বিএনপি-তে ক্রমশ গুরুত্ব বাড়ছিল তাঁর। ডার্ক প্রিন্স নামে ডাকা হত তাঁকে। এই নাম পাওয়ার পিছনেও ছিল কারণ। মা খালেদা জিয়ার আড়ালে থাকতেন তারেক। তবে সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নাকি তিনিই নিতেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এভাবেই সরকার চালিয়েছেন তিনি।
২০০৬ সালে বাংলাদেশে পালাবদল হয়। ক্ষমতা হারায় বিএনপি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। অশান্ত বাংলাদেশে গ্রেফতার করা হয় তারেককে। ১৮ মাস জেল খাটেন তিনি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাসিনা সরকার তাঁকে জেলমুক্তি দেয়। ২০০৭ সালের পর থেকে তারেকের বিরুদ্ধে ৮৪টি মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ, বেআইনি সম্পত্তি এবং গ্রেনেড হামলায় আদালতে দোষীসাব্যস্তও হন তারেক। যদিও বিএনপির দাবি ছিল, সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এরপরই দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। ১৭ বছর স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন তিনি। তবে লন্ডনে থাকলেও থাকলেও বিএনপি-র বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তারেক রহমান। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বিএনপি-র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হন তিনি।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ইউনূস আমলে আদালত তাঁর সব মামলা খারিজ করে দেয় এবং সাজা বাতিল করে দেয়। বর্তমানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। মামলা খারিজ হওয়ার পর থেকেই জল্পনা শোনা যাচ্ছিল যে দেশে ফিরে আসবেন তারেক। ২০২৫ সালের শেষে খালেদা জিয়া যখন মৃত্যুশয্যায়, তখন ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। পাঁচদিন পর খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। তারপরই বিএনপির দায়িত্ব নেন তারেক। এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি।