
ঢাকা: বাংলাদেশে নির্বাচন (Bangladesh Election) আজ। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে আজ নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে যেমন বাংলাদেশবাসী, তেমনই নজর রয়েছে গোটা বিশ্বেরও। আর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্নটা উঠে আসছে, তা হল বাংলাদেশে গণতন্ত্র কি ফিরবে?
আজ, বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। চলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদের ভোটের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। ভোট দেবেন প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
ভোটের আগের রাতে, বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগামী নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সকল ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুষ্ঠ, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারব”।
বাংলাদেশের ভোট নিয়ে এত চর্চা কারণ সে দেশে শেষবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল মাত্র দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। ওই বছরই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৫ অগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের তিনদিন পরই, ৮ অগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এই সরকারের প্রধান পদে বসেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস। এই অন্তর্বর্তী সরকারকে বিদায় জানিয়ে এবার ফের নির্বাচিত সরকার গঠিত হবে বাংলাদেশে। তবে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা ও পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠ বা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সে দেশের মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কয়েক মাস পর থেকেই জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানাতে শুরু করে বিএনপি সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এই নিয়ে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও শুরু হয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে লন্ডনে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। দেশে ফিরে এসে ৫ অগস্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে ইউনূস জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন হবে। তবুও নির্বাচন নিয়ে জট-ধোঁয়াশা কাটছিল না। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত কয়েকটি নির্বাচন নিরপেক্ষ নির্বাচন ছিল না। কোনওটি ‘রাতের ভোট’ ছিল, কোনওটি আবার ‘আমি বনাম ডামি’র ভোট ছিল। নির্বাচন নিয়ে এই তিক্ত অভিজ্ঞতায় অনেক ভোটাররাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। সেখানেই এবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তারা। এই জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে প্রত্যাশা অনেক।
এবারের ভোটে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর যুবশক্তি। ১২ কোটিরও বেশি ভোটারের মধ্যে ৪ কোটি ৯০ লাখ ভোটারই তরুণ। এটা তাদের প্রথম নির্বাচন। এই যুবশক্তির ক্ষমতাবলেই উৎখাত করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। তারা কি দেশে পরিবর্তন আনতে পারবেন?
আর শুধু তো জাতীয় নির্বাচন নয়, একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে, সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করা হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে, আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।