AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bangladesh: ‘হিংসা বরদাস্ত নয়’, বিএনপি-র জয়ের পর কড়া বার্তা তারেকের

BNP chairman Tarique Rahman: এদিন সাংবাদিকরা তাঁর কাছে জানতে চান, "বিদেশনীতি এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আপনার কী ভাবনা?" এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারেক বলেন, "বিদেশনীতি নিয়ে আমাদের ভাবনা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থই সবার আগে, এটাই আমাদের বিদেশনীতি।" ভারত, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবেন? এই প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, "আমাদের কাছে প্রত্যেক দেশের জন্য বিদেশনীতি এক।"

Bangladesh: 'হিংসা বরদাস্ত নয়', বিএনপি-র জয়ের পর কড়া বার্তা তারেকের
কী বললেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান?Image Credit: Social Media
| Updated on: Feb 14, 2026 | 4:51 PM
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে তাঁর দল। তার পরও বিএনপি নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে দেখা যায়নি। আর সরকার গঠনের আগে তার কারণ জানালেন বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, কোনওরকম হিংসা, বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করবে না নতুন সরকার। একইসঙ্গে বিদেশনীতি নিয়ে নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, এদিন স্পষ্ট করে দিলেন তারেক রহমান।

নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর এদিন ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তারেক। সেখানে দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আর সেই সাংবাদিক বৈঠকেই নতুন সরকারের লক্ষ্য খোলসা করে দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এদিন তিনি বলেন, “প্রিয় দেশবাসী, এই বিজয় বাংলাদেশের। এই বিজয় গণতন্ত্রের। এই বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের। আজ থেকে আমরা সবাই স্বাধীন। সকল প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্রের পথ সুগম করেছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে চলেছি।”

এরপরই তিনি বলেন, “আর কোনও অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রপতি পরিণত করতে না পারে, তার জন্য আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকব। থাকতে হবে। ৫১টি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। সবাইকে অভিনন্দন জানাই। সরকার ও বিরোধী পক্ষ, যে যার ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু, দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতির ঐক্য আমাদের শক্তি।”

ভোটপ্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক বলেন, “শান্তিপূর্ণ ভোটপ্রক্রিয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানাই। যাঁরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাই। বেগম খালেদা জিয়া ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আজ তাঁর অনুপস্থিতিতে সবাই ভারাক্রান্ত।”

সরকার গড়ার পর বিএনপি-র লক্ষ্য নিয়ে তারেক বলেন, “জনগণ বিএনপি-র প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য এবার বিএনপি-কে কাজ করে যেতে হবে। বিএনপি-র নেতারা এতদিন যে লড়াই করেছেন, তাঁর জন্য ধন্যবাদ। এবার দেশ গড়ার পালা। দেশ পুনর্গঠনে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এই জন্য শত উস্কানির মুখেও আমি বাংলাদেশের সমস্ত বিএনপি নেতাদের শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কোনও অপশক্তি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর সুযোগ না পায়, এই জন্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পরও আমি সারা দেশে বিএনপির নেতাদের বিজয় মিছিল বের করতে নিষেধ করেছিলাম।”

নতুন সরকার বাংলাদেশে যে কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করবে না, সেই বার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমার বক্তব্য স্পষ্ট, যেকোনও মূল্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনওরকম অন্যায় কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড আমরা বরদাস্ত করব না। দলমত, ধর্ম নির্বিশেষে কোনও অজুহাতেই দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না। ন্যায়পরায়ণতা হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে আমাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য আইন সমান।”

জানা গিয়েছে, দিন তিনেকের মধ্যে নতুন সরকার শপথ নেবে। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক। এদিন সাংবাদিকরা তাঁর কাছে জানতে চান, “বিদেশনীতি এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আপনার কী ভাবনা?” এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারেক বলেন, “বিদেশনীতি নিয়ে আমাদের ভাবনা স্পষ্ট। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের স্বার্থই সবার আগে, এটাই আমাদের বিদেশনীতি।” ভারত, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক বজায় রাখবেন? এই প্রশ্নে বিএনপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমাদের কাছে প্রত্যেক দেশের জন্য বিদেশনীতি এক।”

গত দেড় বছরে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। সাংবাদিকরা বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান, “কী কী চ্যালেঞ্জ আপনার কাছে?” যার জবাবে বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্থনীতি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলাও চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।” শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রশ্নে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে নাম না করে হাসিনা সরকারকে ফ্যাসিবাদ বলেছেন একাধিকবার।