কেমোথেরাপিতে ক্লান্ত শরীর, পাশে শুয়ে থাকা প্রেমিকই ঘুমের মধ্য়ে ধর্ষণ করতেন দিনের পর দিন!
Crime News: ২০০৯ সালে একটি সিনেমার শুটিংয়ে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় যুবতীর। ২০১২ সালে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়। প্রেমিক হিসাবে ভীষণই স্নেহ ও যত্নশীল ছিল ওই যুবক। ২০১৭ সালে এলার্স-ড্যানলস সিনড্রোমে আক্রান্ত হন যুবতী। তাঁর দেখাশোনার জন্য কাজও ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত যুবক।

লন্ডন: ১৩ বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক। প্রেমিককে বিশ্বাস করতেন অন্ধের মতো। অসুস্থ হওয়ার পর সেই প্রেমিকই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর অন্যতম ভরসা। তিনিই পরিচর্যা করতেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল ভয়াবহ অপরাধ। ঘুমের মধ্যে ধর্ষণ করতেন প্রেমিকাকে।
অপরাধের কথা স্বীকার করতেই শেষ পর্যন্ত কারাগারে যেতে হল প্রেমিককে। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিটেনের মিডল্যান্ডসে। সেখানে এক অসুস্থ যুবতী নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন বিশ্বের সঙ্গে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালে একটি সিনেমার শুটিংয়ে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় যুবতীর। ২০১২ সালে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়। প্রেমিক হিসাবে ভীষণই স্নেহ ও যত্নশীল ছিল ওই যুবক। ২০১৭ সালে এলার্স-ড্যানলস সিনড্রোমে আক্রান্ত হন যুবতী। তাঁর দেখাশোনার জন্য কাজও ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত যুবক।
এতদূর অবধি সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু ২০২০ সালে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন সন্দেহ হয় অ্যাডেলের। তাঁর অভিযোগ, কেমোথেরাপি চলার সময় ওষুধের প্রভাবে যখন যুবতী ঘুমিয়ে থাকতেন, তখন সেই সুযোগ নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন প্রেমিক। প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, ২০২৫ সালে নিজের অন্ত্রের ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন ওই যুবক শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয়।
গোটা ঘটনায় এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা যুবতী যে তাঁকে পেশাদার থেরাপিস্টের দ্বারস্থ হতে হয়। তিনিই পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন। এরপরই তিনি অভিযোগ করেন। জেরায় তাঁর প্রেমিক ঘৃণ্য অপরাধের কথা স্বীকারও করে নেন। দুটি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। আদালত অভিযুক্তকে ছয় বছর আট মাসের সাজা দেয়।
নির্যাতিতার দাবি, দুইবার নয়, তাঁর অনুমান আরও একাধিকবার ঘুমের মধ্যে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরিচর্যার আড়ালে অন্তত সাত-আটবার তাঁকে ধর্ষণ করেছেন তাঁরই প্রেমিক।
