
ওয়াশিংটন: বাংলাদেশে হাসিনা জমানা শেষ? রাজনীতি পুরোপুরি ছাড়ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগের নেত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)? তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন। বললেন যে তাঁর মা আগেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার আর সুযোগ পাননি। তার আগেই বাংলাদেশে ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
বর্তমানে ওয়াশিংটনে থাকেন হাসিনা পুত্র সজীব। সেখানেই আল জাজিরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর মা, শেখ হাসিনার অবসর নিয়ে কথা বলেন। জানান যে হাসিনা আগেই রাজনীতি-নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটাই তাঁর শেষ মেয়াদ ছিল। বয়সভারের জন্য় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা এক প্রকার ‘হাসিনা জমানায় ইতি’ বলেই উল্লেখ করেন সজিব।
আগামী মাসেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন, অথচ অংশ নিতে পারবে না শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগ। দলের উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে কমিশন। শেখ হাসিনা না থাকায় বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে আওয়ামী লিগ? দলের অস্তিত্বই থাকবে না? এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিনা পুত্র বলেন যে শেখ হাসিনার অবসরে আওয়ামী লিগের নেতৃত্বে কোনও প্রভাব পড়বে না। বলেন, “এটা বাংলাদেশের সবথেকে পুরনো রাজনৈতিক দল। ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। মাকে নিয়ে হোক বা মাকে ছাড়া, দল চলবেই। কেউ তো চিরকাল থাকে না।”
২০২৪ সালের অগস্ট মাসের ৫ তারিখ গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। ওই আন্দোলনে ১৪০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উপরে অস্ত্রপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতে সেই অডিয়ো পেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে চারটি মামলায় যাবজ্জীবন ও ফাঁসির সাজা দিয়েছে। সত্যিই কি আন্দোলনকারীদের উপরে গুলি চালাতে বলেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী? হাসিনা পুত্রের দাবি, তাঁর মায়ের কথার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রয়োগের কথা বলেছিলেন হাসিনা, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা ছাত্র-যুবদের উপরে নয়।
বাংলাদেশের আবেদন মেনে ভারত শেখ হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে না, সেই বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী জয়। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারতই সবথেকে সুরক্ষিত জায়গা। যদিও মা বাংলাদেশে ফিরে যেতে এবং অবসর নিতে চান”। তিনি আরও বলেন যে তাঁর মা (শেখ হাসিনা)-এর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। নয়া দিল্লি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই কাজ করবে।
অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুতে আওয়ামী লিগের দিকেই আঙুল উঠছে। সেই অভিযোগও খারিজ করে দেন সজীব। বলেন যে দলের এই ধরনের হামলা চালানোর ক্ষমতা নেই। বলেন, “যদি আমাদের বাংলাদেশে হত্যালীলা চালানোর ক্ষমতা থাকত, তাহলে কি এই সরকার এখনও থাকত?”