AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Marriage Law: এই দুই দেশে ডিভোর্স ‘বেআইনি’! সম্পর্কে ভাঙলে কী করেন স্বামী-স্ত্রী?

Countries without divorce: মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাথলিক চার্চের ক্যানন আইন অনুযায়ী, বৈধ ও ধর্মীয় বিবাহ কোনও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবাহের বৈধতা বাতিল, স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকা এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

Marriage Law: এই দুই দেশে ডিভোর্স 'বেআইনি'! সম্পর্কে ভাঙলে কী করেন স্বামী-স্ত্রী?
প্রতীকী ছবিImage Credit: AI Generated Image
| Updated on: Nov 02, 2026 | 4:18 PM
Share

ফিলিপিন্স ও ইতালি : আপনার সঙ্গীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না, বা কোনও কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এতটাই দূরত্ব যা একটা বিয়ে ভাঙার ক্ষেত্রে হয়ত যথেষ্ঠ। বিয়ে ভেঙে গেলে আইনি পথে সেই সম্পর্কের ইতি টানা হয়। যাকে আইনি পরিভাষায় বলা হয় ডিভোর্স। প্রত্যেক দেশেই এই নিয়ম রয়েছে। তবে জানেন কি বিশ্বে এমন দু’টি দেশ রয়েছে, যেখানে বিবাহ বিচ্ছেদ অবৈধ। অর্থাৎ ডিভোর্সের কোনও নিয়মই নেই।

দুই দেশের মধ্যে একটি হল ফিলিপিন্স, অন্যটি ভ্যাটিকান সিটি। তবে দুই জায়গার আইনি পরিস্থিতি এক নয়। ফিলিপিন্সে অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ডিভোর্সের ব্যবস্থা নেই । যদিও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাথলিক চার্চের ক্যানন আইন অনুযায়ী, বৈধ ও ধর্মীয় বিবাহ কোনও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া যায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিবাহের বৈধতা বাতিল, স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকা এবং কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

ফিলিপিন্সে ডিভোর্সের সাধারণ আইন নেই

ফিলিপিন্সে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের কোনও আইন নেই। পরিবর্তে সে দেশের পারিবারিক আইনে রয়েছে লিগ্যাল সেপারেশন, অ্যানালমেন্ট এবং ডিক্লারেশন অফ নালিটি অফ ম্যারেজের মতো আইনি ব্যবস্থা। তবে এই তিনটি ব্যবস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

লিগ্যাল সেপারেশন বা আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার অনুমতি পেতে পারেন। কিন্তু এর ফলে তাঁদের বিয়েতে বিচ্ছেদ ঘটে না।  অর্থাৎ, আইনি বিচ্ছেদ হলেও তাঁরা আইনত বিবাহিত থাকেন। তাই নতুন করে বিয়ে করার অধিকারও পান না। কারণ, লিগ্যাল সেপারেশন আর ডিভোর্স এক বিষয় নয়।

ফিলিপিন্সের ফ্যামিলি কোড অনুযায়ী, বিবাহিত জীবনে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, সঙ্গীকে পরিত্যাগ করা এবং নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে লিগ্যাল সেপারেশনের আবেদন করা যায়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করলেও বিবাহের সম্পর্ক অটুট থাকে।

অন্যদিকে, অ্যানালমেন্ট বা ডিক্লারেশন অফ অ্যাবসলিউট নালিটির ক্ষেত্রে আদালতে বিবাহের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অর্থাৎ, কোনও বৈধ বিয়ে ভেঙে দেওয়ার বদলে আদৌ সেই বিবাহ আইনত বৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। এই কারণেই এই ব্যবস্থাগুলি সাধারণ ডিভোর্সের সমতুল নয়।

তবে ফিলিপিন্সের আইনে একটি বিশেষ ব্যতিক্রমও রয়েছে। সেদেশের কোনও নাগরিকের সঙ্গে অন্য কোনও দেশের নাগরিকের বিয়ে হলে এবং বিদেশি সঙ্গী বিদেশে আইনত ডিভোর্স পেলে, নির্দিষ্ট শর্তে সেই ডিভোর্সের স্বীকৃতি ফিলিপিন্সেও পাওয়া যেতে পারে।

ফিলিপিন্সে ডিভোর্সের কোনও ব্যবস্থা নেই, এমন দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ, সে দেশে মুসলিম নাগরিকদের জন্য রয়েছে আলাদা কোড অফ মুসলিম পার্সোনাল ল। এই আইনে নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট ই-লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, এই আইনের ৪৫ নম্বর ধারায় বিবাহবিচ্ছেদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে তালাক, খুল এবং বিচারবিভাগীয় বিবাহবিচ্ছেদ বা ফাসখের মতো একাধিক পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। এই আইন মূলত সেই সব বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই মুসলিম।

ভ্যাটিকান সিটিতে বিবাহকে অবিচ্ছেদ্য বলে মনে করা হয়

ফিলিপিন্সের তুলনায় ভ্যাটিকান সিটির পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। ক্যাথলিক চার্চের ক্যানন আইন অনুযায়ী, এখানকার বিয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল একতা ও অবিচ্ছেদ্য। অর্থাৎ, বৈধ ও সম্পন্ন ধর্মীয় বিবাহ মানুষের কোনও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভেঙে দেওয়া যায় না। মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনও কারণে এমন বিয়ের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়।

তবে এখানেও কিছু বিশেষ বিধান রয়েছে। ক্যানন আইনের ১১৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও বিয়ে সম্পন্ন না হয়ে থাকলে উপযুক্ত কারণের ভিত্তিতে পোপ সেই বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারেন।

এ ছাড়া, ক্যাথলিক চার্চে বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা খতিয়ে দেখার জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিয়েকে বাতিল বা ডিক্লেয়ারেশন অফ নালিটি দেওয়া হতে পারে। তবে একে ডিভোর্সের সমতুল বলা যায় না। কারণ, এখানে কোনও বৈধ বিবাহ ভেঙে দেওয়া হয় না; বরং ক্যানন আইন অনুযায়ী আদৌ বৈধ বিবাহ হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হয়।

স্বামী-স্ত্রী কি আলাদা থাকতে পারেন?

ভ্যাটিকান সিটির ক্যানন আইনেও স্বামী-স্ত্রীর আলাদা থাকার বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট কারণ থাকলে তাঁরা একসঙ্গে না থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে তাতে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না। অর্থাৎ, আলাদা থাকা এবং বিবাহবিচ্ছেদ-দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

দুই দেশেই কি ডিভোর্স বেআইনি?

বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ফিলিপিন্সে অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ডিভোর্সের ব্যবস্থা না থাকলেও মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে বিচ্ছেদের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, বিদেশে হওয়া কিছু ডিভোর্সও সে দেশের আইনে স্বীকৃতি পেতে পারে। অন্যদিকে, ভ্যাটিকান সিটির ক্যাথলিক ক্যানন আইন অনুযায়ী, বৈধ ও সম্পন্ন ধর্মীয় বিবাহের ডিভোর্সের সুযোগ নেই। তবে আলাদা থাকার অনুমতি, বিবাহের বৈধতা বাতিল এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে বিবাহবন্ধন থেকে মুক্তির বিধান রয়েছে।

Follow Us