
ঢাকা: বাংলাদেশে সরকার গড়ছে বিএনপি (BNP)। ২৫ বছর পর আবার ক্ষমতায় ফিরল জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার দল। প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন তাদের ছেলে তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের পথ চলা শুরু হওয়ার আগেই রয়েছে বড় একটা কাঁটা। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন, এ কথা স্পষ্ট। কিন্তু কে করাবেন শপথ পাঠ? জয়ের পর এই সাংবিধানিক প্রশ্নেই আটকে রয়েছে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর থেকে কোনও অস্তিত্বই নেই বাংলাদেশ সংসদের। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে লিডার অফ দ্য হাউস হিসেবে শপথ নিতে পারছেন না ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেক্ষেত্রে আপাতত সম্ভাবনা অনুযায়ী, শপথপাঠ করাতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল রাতে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল, আজ শনিবারই শপথ নেবেন তারেক রহমান। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে শপথ গ্রহণের জন্য। সে ক্ষেত্রে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার অফিস সূত্রে খবর, যেদিন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, সেদিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে পারেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে হয় বিদায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকারকে। বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর মনোনীত ব্যক্তিও শপথ পাঠ করাতে পারেন। কিন্তু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
বিদায়ী স্পিকারের সিদ্ধান্তের জন্য অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে যেহেতু স্পিকারের খোঁজ নেই, তাই নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথপাঠ করাতে পারবেন। শুক্রবার রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে বিএনপি জিতেছে। জামাত পেয়েছে ৬৮টি আসন। অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। দুটি আসনের ফলাফল এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না আদালতের নির্দেশে।