
ঢাকা: দিনের পর দিন একই ঘটনা। একের পর এক হত্যা। নিশানা হিন্দুরা। বাংলাদেশে আবারও নৃশংসভাবে হত্যা করা হল আরেক হিন্দু যুবককে। তাঁর অপরাধ কী ছিল? পেট্রোল পাম্পে তেল ভরার পর তিনি সেই তেলের দাম চেয়েছিলেন। সেই অপরাধেই ওই হিন্দু যুবককে গাড়ি দিয়ে পিষে মারল। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলায়।
শুক্রবার বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলায় রিপন সাহা নামক বছর তিরিশের এক যুবককে গাড়ি চাপা দিয়ে পিষে হত্যা করা হয়। জানা গিয়েছে, ওই যুবক গোয়ালান্দা মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে কাজ করতেন। শুক্রবারও নিজের ডিউটি করছিলেন। সেই সময় একটি এসইউভি গাড়ি আসে। ৫০০০ টাকার তেল ভরায় গাড়ির চালক। এরপরই টাকা না দিয়ে কালো রঙের ওই ল্যান্ড ক্রুজার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। রিপন বাধা দেয়। গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে প্রাপ্য টাকা চায়। কিন্তু চালক টাকা দেওয়ার বদলে রিপনকেই গাড়ির তলায় পিষে দিয়ে পালিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, যে গাড়িটি চাপা দিয়েছে, সেটি প্রাক্তন বিএনপি নেতার। অভিযুক্তের নাম আবুল হাসান ওরফে সুজন (৫৫)। ঘাতক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন কামাল হোসেন। হালিম বিএনপির রাজবাড়ি জেলার প্রাক্তন ট্রেজারার এবং জেলা যুব দলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পেশায় তিনি কন্ট্রাক্টর।
পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গাড়ির একদিকে রিপন ও হাসিম দাড়িয়েছিল। কালো এসইউভি গাড়িটি যখন তেল ভরিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল, তখন রিপন বাধা দেয়। গাড়িটির পিছনে ধাওয়া করে। তার পিছু পিছু ওই পেট্রোল পাম্পেরই আরেক কর্মী জা্কির হোসেনও দৌড়ায়। কিছু দূর এগিয়ে জাকির দেখতে পান যে হাইওয়ের উপরে রিপনের দেহ পড়ে রয়েছে। তাঁর মাথায় ও মুখে গুরুতর চোট ছিল। ঘটনাস্থলেই হিন্দু যুবকের মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে নৃশংস অত্যাচার, হত্যালীলা চলছে। গত ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামক এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে, গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারপর একের পর এক হিন্দু হত্য়ার খবর এসেছে। গত ২ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ জন হিন্দুকে খুন করা হয়েছে।