AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

তীব্র জ্বালানি সঙ্কট, দেখুন কীভাবে বাঁচছে এই সব দেশগুলি!

নিউজিল্যান্ডে সরকার ১৯৭৯ সালে 'বিনা কার দিবস (car less day)' ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে যেখানে সপ্তাহের একদিন কোনও মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করবেন না। জেট ফুয়েলের অত্যধিক দামের কারণে প্রায় ১১০০টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ অসুবিধে ভোগ করেছেন।

তীব্র জ্বালানি সঙ্কট, দেখুন কীভাবে বাঁচছে এই সব দেশগুলি!
Image Credit: Getty Images
| Edited By: | Updated on: Mar 24, 2026 | 7:13 PM
Share

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে। আর তার আঁচ গোটা পৃথিবীতে। ইরানের হুঁশিয়ারিতে তেলের জাহাজ বের হতে পারছে না হরমুজ প্রণালী থেকে। এর ফলে তৈরি হয়েছে চরম জ্বালানি সঙ্কট। আর এই জ্বালানি সঙ্কট ঘোচাতে বিকল্প পথে হাঁটতে চলেছে বেশ কিছু দেশ। ইউরোপ থেকে এশিয়া – বিভিন্ন দেশগুলি সীমিত জ্বালানিকে বাঁচাতে বেশি করে সরকারি ছুটি দেওয়া থেকে শিল্প কারখানা বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যেমন ধরুন শ্রীলঙ্কা। প্রতি বুধবার স্কুল, কলেজ ও অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের জন্য চালু করা হয়েছে জাতীয় জ্বালানি পাস। ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য সপ্তাহে ১৫ লিটার ও গণপরিবহনের জন্য ২০০ লিটার জ্বালানি খরচের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে আবার খরচ কমাতে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি ভাষার স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে ৫ ঘন্টার লোডশেডিং ও পোশাক রফতানি খাতের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তেল মজুত রাখতে তেলের ডিপোয় সেনাবাহিনী মজুত করা হয়েছে। গ্যাসের অভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত ৫টি সার কারখানার মধ্যে ৪টি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ভুটানেও শুরু হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। জ্বালানি রেশনিং করা হচ্ছে। পাকিস্তানে সপ্তাহে ৪ দিন কাজ ও সরকারি কর্মীদের জন্য ৫০% কাজ ঘরে বসে করতে বলা হয়েছে। দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও কলেজ বন্ধ করা হয়েছে।

ভিয়েতনামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ২৮ মার্চ থেকে মিশরে মল, রেস্তরাঁ রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিস সন্ধে ৬টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও খরচ কমাতে বিলবোর্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে সরকার ১৯৭৯ সালে ‘বিনা কার দিবস (car less day)’ ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে যেখানে সপ্তাহের একদিন কোনও মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করবেন না। জেট ফুয়েলের অত্যধিক দামের কারণে প্রায় ১১০০টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ অসুবিধে ভোগ করেছেন। স্থানীয় মানুষের জন্য সরবরাহ চালিয়ে রাখতে স্লোভেনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিক্রেতা কোম্পানি MOL Slovania তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে। এখানে গাড়ির জন্য ৩০ লিটার ও ট্রাকের জন্য ২০০ লিটার তেল বরাদ্দ করা হয়েছে।

ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব যেমন অসুবিধের সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনই তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে। এই ঘটনা মানুষকে মনে করাচ্ছে, যুদ্ধের বিকল্প পথ বের করা ও জ্বালানি সংরক্ষণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা হচ্ছে, খুব সম্ভবত এখনও কয়েক দিন এই সমস্যা ভোগ করবে সাধারণ মানুষ।

Follow Us