Nepal floods: নেপালে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, নতুন সতর্কতা জারি
কাদা, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। একাধিক এলাকায় পৌঁছনো এখনও কঠিন। কারণ, বহু রাস্তা ধসে গিয়েছে এবং সেতু ভেসে গিয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলি থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বারবার আকাশপথে হেলিকপ্টারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কাঠমান্ডু: ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক দেহ উদ্ধার হচ্ছে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা মঙ্গলবার হাজার ছাড়াল। এখনও পর্যন্ত ১,০০৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার জন। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। এরই মধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ফের বন্যার আশঙ্কায় নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
দুর্গত এলাকাগুলিতে ২১ হাজার ৩০০-রও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ার ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চললেও পূর্ব, মধ্য ও পশ্চিম নেপালের বিভিন্ন নদীর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। রসুয়া ও নুয়াকোট-সহ কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে আরও বৃষ্টি হলে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই বিপর্যয়ের পর ক্লাইমেট জাস্টিস বা বা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অসাম্য দূর করার দাবি জোরালো করেছে নেপাল। বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানাতে হবে।
২৬ অগস্টের এই বিপর্যয় নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের পর তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। এর জেরে ভোতেকোশি নদীতে বিপুল জলরাশি নেমে আসে। বন্যার জল শহর ও গ্রামগুলির উপর দিয়ে ভয়াবহ গতিতে বয়ে যায়। ভেসে যায় বহু বাড়ি ও গাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।
মৃতের সংখ্যা ১,০০০ পার, নিখোঁজ প্রায় ৪,০০০-
উদ্ধারকারীরা আটটি দুর্গত জেলা থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,০০৩ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চিতওয়ানে। ৩২১ জন। এরপর রয়েছে নওয়ালপরাসি ইস্ট। যেখানে মৃতের সংখ্যা ২১৬। প্রায় ৪,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২,০০০ মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কাদা, ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। একাধিক এলাকায় পৌঁছনো এখনও কঠিন। কারণ, বহু রাস্তা ধসে গিয়েছে এবং সেতু ভেসে গিয়েছে। দুর্গম এলাকাগুলি থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বারবার আকাশপথে হেলিকপ্টারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নেপালে জারি নতুন সতর্কবার্তা-
নেপালের বিভিন্ন অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং একাধিক নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সেদেশের জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ সরকারি আধিকারিক, আবহাওয়া দফতরের আধিকারিক এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রসুয়া, নুয়াকোট-সহ অন্যান্য দুর্গত জেলায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। নতুন করে বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে নদী পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে নেপাল সরকার।
