
ঢাকা: বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন (Bangladesh Election) সত্যিই আলাদা। গতবারের নির্বাচনে যে দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, সেই আওয়ামী লীগই (Awami League) এবার অংশ নিতে পারছে না নির্বাচনে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগকে। দল নির্বাচনে লড়ছে না, তাহলে দলের কর্মী-সমর্থকরা কী করবে? দলনেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ভোট বয়কট করতে বলেছেন। তবে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেক আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরাই আজ বুথে যাবেন। কী করতে? কাকে ভোট দেবেন তারা?
বাংলাদেশের নির্বাচনের আগেই স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, ‘নো বোট, নো ভোট’। যেহেতু ভোটে নেই আওয়ামী লীগ, তাই ভোট দেওয়ার দরকার নেই। দেশ ছেড়ে চলে আসা শেখ হাসিনাও অডিয়ো বার্তায় দলীয় কর্মীদের সেই বার্তাই দিয়েছেন। তবে দলের নেতারা অনেকেই মনে করছেন, ভোটকেন্দ্রে না যেতে বলা হলেও, কর্মী-সমর্থকদের একটা অংশ ভোট দিতে যাবে। তার অনেক কারণও রয়েছে। কারোর রয়েছে মামলার ভয়, কেউ আবার প্রলোভনে পড়ে ভোট দিতে যাবেন।
ভোট বয়কটের ডাক দিলেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়া আটকে বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে না আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর নেপথ্যে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সহযোগী বা সমর্থনকারী দলও পাশে নেই। আগের নির্বাচনে হিংসার কারণে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়েছিল জামাত থেকে বিএনপি। দুই দলই ভোট বয়কট করেছিল। আওয়ামী লীগ এই ভুল করতে চায় না।
তবে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ বলছেন, মূল লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারকে বিদায় করা। এই নির্বাচনে সেটাই হবে। তাদের এখনও বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনও নির্বাচন হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, একাধিক মামলা করা হয়েছে। এই সরকার বিদায় নিলে সেই পরিস্থিতি বদলাবে।
প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের আগে বিগত কয়েক দিনে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রী-সাংসদরা নিজে নির্বাচনী এলাকার মানুষদের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে বা অডিয়ো বার্তা পাঠিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনাও ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ করেছেন। দলের অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক ভোট দিতে যাবেন না বলেই অনুমান। তবে কেউ কেউ ভয় বা লোভে পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আওয়ামী নেতাদের ধারণা, সমর্থকদের মধ্যে যাঁরা ভোট দিতে যাবেন, তাঁরা গণভোটে ‘না’–এর পক্ষে রায় দেবেন। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে বিকল্প প্রার্থী বা নির্দল ও সংখ্যালঘু প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট পেতে পারেন।