
কিয়েভ: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) থামার কোনও লক্ষণ নেই। দুই দেশের শীর্ষস্তরের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হলেও এখনও অবধি কোনও সমঝোতা সূত্র বেরিয়ে আসেনি। রাশিয়ান আক্রমণে বিধ্বস্ত ইউক্রেন। বুচাতে চারদিকে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া কোনওভাবেই পিছু হঠতে রাজি নয়, যে কোনও মূল্যে ইউক্রেনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ইউক্রেনের ওপর ক্রমাগত বোমাবর্ষণ জারি রেখেছে রাশিয়া। আবারও এক সাংঘাতিক রাশিয়ান আক্রমণের মুখোমুখি ইউক্রেন। পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামতোর্স্ক শহরের একটি রেলেওয়ে স্টেশেনে শুক্রবার আছড়ে পড়েছে রাশিয়ান রকেট লঞ্চার। রাশিয়ান এই রকেট হানার কারণে কমপক্ষে ৩০ জন সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। এই রকেট লঞ্চার হানায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলেই খবর।
জানা গিয়েছে, দুটি রাশিয়ান রকেট ওই রেলওয়ে স্টেশনে নিক্ষেপিত হয়েছিল। ওই রেলওয়ে স্টেশনটির মাধ্যমেই নাগরিকদের বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা হচ্ছিল। ইউক্রেন রেলওয়ে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে “ক্রামতোর্স্ক স্টেশনে দুটি রকেট নিক্ষেপিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে এই রকেট হানার ফলে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।” তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। যদিও রাশিয়ার তরফে এই নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য আসেনি। এমনকী মৃতের সংখ্যা নিয়েও কোনও মন্তব্য করেনি রাশিয়া।
ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। সেই সময় থেকেই মস্কো জানিয়ে আসছিল যে তারা সাধারণ নাগরিকদের কখনওই নিশানা করবে না। তবে বারবারই রাশিয়ান আক্রমণে সাধারণ ইউক্রেনীয় নাগরিকদের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। এমনকী রাশিয়ান সেনাদের বিরুদ্ধে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের বাড়িতে ঢুকে তাদের হত্যা এমনকী মহিলাদের ধর্ষণের মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের রেলওয়ে প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ক্রামতোর্স্ক এলাকাতে সাধারণ নাগরিকদের উদ্ধারকারী তিনটি ট্রেনের লাইন অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।