কিয়েভ: ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরই সেই দেশ থেকে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে আটকে থাকা ভারতীয়দের। ইউক্রেনের এয়ারবেস বন্ধ থাকায়, প্রতিবেশী পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ার পথ ধরে বিশেষ বিমানের মাধ্যমে ভারতীয়দের উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। তবে সীমান্ত অবধি পৌঁছতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ভারতীয় পড়ুয়াদের। সম্প্রতিই পড়ুয়ারা অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সীমান্তে ইউক্রেনীয় সেনা মারধর করছে। এবার ভারতীয়দের পণবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল। বুধবারই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করে হয়, খারকিভে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে বন্দি করে রেখেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গতকালই একটি সাংবাদিক বিবৃতিতে বলেন, “গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জোর করে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে খারকিভে আটকে রেখেছে। ওই পড়ুয়ারা ইউক্রেনের সীমান্ত পার করে বেলগার্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তাদের জোর করে বন্দি বানিয়ে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধারকার্যে সবরকমের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের উদ্ধার করে রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে ভারতের সামরিক বা উদ্ধারকারী বিশেষ বিমানে করে দেশে পাঠাতে আগ্রহী।”
উল্লেখ্য, গতকালই খারকিভে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁদের এই বার্তালাপের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে এই বিবৃতি পেশ করা হয়।
খারকিভের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশের পরই রুশ সেনা ভারতীয় ছাত্রীদের জন্য সেফ প্যাসেজের ব্যবস্থা করে এবং তাদের ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পৌঁছনোর জন্য ট্রেনে তুলে দেয়। ২০ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রাপথ পার করে আজ ওই পড়ুয়ারা সীমান্তে পৌঁছবে। অন্যদিকে, খারকিভে যে সমস্ত ছাত্ররা আটকে রয়েছে, তাদের জন্য একই ব্য়বস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় পড়ুয়াদের দুর্দশার চিত্র ভাইরাল হয়েছে। গতকাল ভারতীয় দূতাবাসের তরফে সন্ধে ৬টার আগেই সমস্ত ভারতীয়দের খারকিভ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই আটকে থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেলস্টেশনের উদ্দেশে তাদের হুড়োহুড়ি করে পালাতেও দেখা যায়। তবে স্টেশনে গেলেও তাদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বহু ভারতীয়েরই। যারা কোনওমতে ট্রেনে উঠেছিলেন, তাদেরও ইউক্রেনীয়রা মারধর করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।