AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Worm: হার মানবে কুম্ভকর্ণও! ৪৬০০০ বছর পরে ঘুম ভাঙল ‘ওদের’, এবার?

Russia: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট অব মলিকিউলার সেল বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকসের বিজ্ঞানী তেমুরাস কুর্জচালিয়া জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৩১.২ ফুট গভীরে চাপা পড়েছিল। সাইবেরিয়ান পার্মাফ্রস্ট, এটা হল মাটির নীচে এক চিরহিমায়িত অঞ্চল।

Worm: হার মানবে কুম্ভকর্ণও! ৪৬০০০ বছর পরে ঘুম ভাঙল 'ওদের', এবার?
উদ্ধার হওয়া গোলকৃমি।Image Credit: Twitter
| Edited By: | Updated on: Aug 04, 2023 | 1:17 PM
Share

জার্মানি: কুম্ভকর্ণ ওদের কাছে নস্যি! ১০-২০ বা ২০০-৩০০ বছর নয়, একটানা ৪৬০০০ বছর ধরে ঘুমিয়ে চলেছিল ‘ওরা’। অবশেষে তাদের ঘুম ভেঙেছে। এক বিন্দু জল পেতেই নড়েচড়ে প্রাণের অস্তিতের জানান দিয়েছে তারা। গবেষক-বিজ্ঞানীরাও হতবাক এই আবিষ্কারে। ওরা আর কেউ নয়, এক ধরনের গোলকৃমি (Worm)। ৪৬ হাজার বছর পরে ঘুম ভেঙেছে ওদের। ,সম্প্রতিই পিএলওএস জেনেটিকসের একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রেই উল্লেখ করা হয়েছে এই আবিষ্কারের কথা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই গোলকৃমি পাওয়া গিয়েছে সাইবেরিয়ান পার্মাফ্রস্টে (Siberian Permafrost)। বিগত ৪৬ হাজার বছর ধরে বরফের নীচে ঘুমন্ত ছিল গোলকৃমি।

মানবসভ্যতা বলেই যখন কিছু ছিল না, তখন অস্তিত্ব ছিল ওদের। আজও ওরা বেঁচে আছে। শুনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই। প্রশ্ন উঠছে, কোনও প্রাণীর জীবনকাল কি ৪৬ হাজার বছর হতে পারে? কোনও প্রাণী ৪৬ হাজার বছর ধরে ঘুমিয়েও থাকতে পারে? রুশ ও জার্মানির বিজ্ঞানীরা বলছেন, হ্যাঁ পারে। আর তারই প্রমাণ ওই গোলকৃমি। বিগত ৪৬ হাজার বছর ধরে তারা জীবিত ও মৃতের মাঝামাঝি এক অবস্থা, যা ক্রিপ্টোবায়োসিস নামে পরিচিত, সেই অবস্থায় ছিল।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট অব মলিকিউলার সেল বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকসের বিজ্ঞানী তেমুরাস কুর্জচালিয়া জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৩১.২ ফুট গভীরে চাপা পড়েছিল। সাইবেরিয়ান পার্মাফ্রস্ট, এটা হল মাটির নীচে এক চিরহিমায়িত অঞ্চল। সারাবছর তাপমাত্রা এইখানে শূন্যের অনেক নীচে থাকে। পাঁচ বছর আগে একদল রুশ বিজ্ঞানী এই পার্মাফ্রস্টে সুপ্ত অবস্থায় বেশকিছু গোলকৃমির খোঁজ পান। গবেষণাগারে নিয়ে এসে দেখা যায়, স্রেফ জল দিতেই জেগে ওঠে গোলকৃমিরা।

আরও গবেষণার জন্য ১০০টি গোলকৃমিকে জার্মানির কোলনের ল্যাবে পাঠানো হয়। মাটির যে স্তরে কৃমিগুলি ছিল, জার্মানিতে সেই মাটির রেডিয়োকার্বন পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, গত ৪৬ হাজার বছর ধরে ওই মাটির কোনও পরিবর্তন হয়নি। তা ছিল সম্পূর্ণ হিমায়িত অবস্থায়। এরপরই বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে আসেন যে ওই কৃমিগুলিও ওখানে সুপ্ত অবস্থাতেই ৪৬ হাজার বছর কাটিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থাকে তাঁরা বলছেন ক্রিপ্টোবায়োসিস। যা কিনা জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি একটা অবস্থা। যেখানে প্রবল ঠাণ্ডা কিংবা প্রবল গরমে জল ও অক্সিজেন ছাড়াই কোনও জীব বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন কৃমিগুলির শরীর বিশেষ একধরনের কার্বোহাইড্রেট তৈরি করে। যা কিনা তাদের এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছে। গোলকৃমিদের মেটাবলিক রেট এতটাই কমে গিয়েছিল যে তা নির্ণয়ের পর্যায়েও পড়ে না।

Follow Us