AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ভারতের উপরে ১০০ শতাংশ শুল্ক খাঁড়া ছিল! নিজের আইন নিজেই তুলে নিলেন ট্রাম্প

Lindsey O Graham Act: রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ভারত আগেই আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল, অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী দামে সরবরাহ নিশ্চিত করাই রাশিয়া থেকে তেল কেনার মূল কারণ। প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল চিনও।

ভারতের উপরে ১০০ শতাংশ শুল্ক খাঁড়া ছিল! নিজের আইন নিজেই তুলে নিলেন ট্রাম্প
ফাইল ছবি।
| Updated on: Oct 17, 2026 | 9:47 AM
Share

ওয়াশিংটন: নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই বদলালেন ট্রাম্প। লিন্ডসে ও গ্রাহাম আইনের অধীনে রাশিয়া ও ইরানের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিলেন। এর জেরে ভারতের উপরেও ১০০ শতাংশ শুল্কের যে খাড়া ছিল, তা উঠে গেল।

শুক্রবার বিকেলে এগজেকিউটিভ অর্ডার জারি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি গ্রাহাম আইনে নির্ধারিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্কের প্রয়োগ মকুব করছি”। তিনি যুক্তি দেন যে মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন কংগ্রেসের কাছে একটি শংসাপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের প্রয়োগ থেকে ছাড় দেওয়া আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পক্ষে জরুরি।

এই আইনের জোরে রাশিয়ার উপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারতেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনে এমন বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপানোর ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর। এই দেশগুলির তালিকায় শীর্ষেই রয়েছে ভারত ও চিন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রাহাম অ্যাক্টে (Graham Act) স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই আইন তৈরি করা হয়। রাশিয়ার জ্বালানি থেকে আয় এবং যে দেশগুলি এখনও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনে, তাদের নিশানা করাই ছিল এই আইনের মূল লক্ষ্য।

নির্দেশে উল্লেখ করা ব্যবস্থা অনুযায়ী, রাশিয়ার পণ্য আমদানির উপর শুল্ক বেড়ে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারত। পাশাপাশি, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচটি বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ যদি ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার জ্বালানি কিনত, তা হলে সেই দেশগুলি থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থা ছিল।

এ ছাড়া, রাশিয়ার তেলের উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচটি বৃহত্তম দেশের পণ্যের উপরও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প এই শুল্কগুলি মকুব করেছেন।

রাশিয়ার তেলের অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতা ভারত আগেই আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল, অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, দেশের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী দামে সরবরাহ নিশ্চিত করাই রাশিয়া থেকে তেল কেনার মূল কারণ। প্রস্তাবিত এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল চিনও।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলা আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে শুল্ক চাপালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। এর ফলে আমেরিকার সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক সমস্যাও তৈরি করতে পারত। এই কারণেই শুল্ক মকুবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানির দাম কমানোর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। কয়েকজন মার্কিন সেনেটর-সহ সমালোচকদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার ফলে রাশিয়ার আয় বাড়তে পারে। আর সেই অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে মস্কো।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও। তাঁর অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউক্রেনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শাস্তি দিতে কংগ্রেস যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তাও দুর্বল করে দিচ্ছেন তিনি।

Follow Us