
ওয়াশিংটন: রাতের অন্ধকারে বাঘ মারতে পছন্দ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাতেই তিনি ভেনেজ়ুয়েলায় অভিযান চালিয়ে ‘অপহরণ’ করে এনেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। এবার ইরানের জন্যও কি একই ছক কষছেন ট্রাম্প? আগামী ২৪ ঘণ্টায় ইরানে মার্কিন হানা হবে? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হামলার ব্লু প্রিন্ট দেখিয়েছে সেনা। এমনটাই সূত্রের খবর।
ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইরানের আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। এবার কোন কোন পথে ইরানে হামলা চালানো সম্ভব, পেন্টাগনের তরফে তার প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক টার্গেট হবে ইরানের সেনা ঘাঁটি, মিসাইল কেন্দ্র ও পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র।
এই মুহূর্তে ইরানের দিকে তাক করা তিনটি মার্কিন রণতরী ও একটি সাবমেরিন, যাদের মিসাইল ছুঁড়ে হামলার ক্ষমতা রয়েছে। ইরানকে ধীরে ধীরে ঘিরছে আমরিকা। একে একে ভয়ানক সব রণতরী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মধ্য প্রাচ্যে। সবকটি রণতরী থেকেই বিমান হামলা চালানো যাবে। সূত্রের খবর, মার্কিন এয়ারক্রাফট কেরিয়ার আব্রাহাম লিঙ্কন-কেও ইরানের কাছাকাছি আনা হচ্ছে। চিন থেকে মার্কিন রণতরী সরিয়ে ইরানের দিকে আনা হচ্ছে। এক সপ্তাহের কম সময়ে আরও রণতরী এসে যাবে বলেই খবর।
ইজরায়েলও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য এক পা বাড়িয়ে রেখেছে। সূত্রের খবর, ইজরায়েলি সেনা বিমান হামলার মহড়া শুরু করে দিয়েছে।যুদ্ধ হলে তারা আমেরিকাকে হামলায় সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, মাস খানেক আগেই ইরান-ইজরায়েলের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘাত বেঁধেছিল। দুই দেশই নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক ক্ষমতা দেখিয়েছিল। আবার সেই সংঘাত বাঁধতে পারে।
এদিকে, ইরানের সেনাও হাই অ্যালার্ট রয়েছে। সরকারি সব অফিসে ইতিমধ্যেই ইন্টারনেট বন্ধ মার্কিন সাইবার হানার আশঙ্কায়। ইরানে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতা। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি জানিয়েছেন যে তাদের সেনা আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একযোগে যুদ্ধে প্রস্তুত। দেশের অন্দরে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভে ইন্ধন দিচ্ছে আমেরিকা, এই অভিযোগও তোলেন তিনি।
ইরান ইতিমধ্যেই নিজেদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন হামলার আশঙ্কায়। আন্তর্জাতিক কিছু বিমানের ওঠা-নামা ছাড়া আকাশসীমায় ভিন দেশের পাখিও ঢুকতে দেবে না ইরান।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনার সব রাস্তা এখন বন্ধ। দুই দেশের মধ্যে আর কোনও কূটনৈতিক আলোচনার হটলাইন চালু নেই। এদিকে, কাতারের পর সৌদিকেও সতর্ক করল আমেরিকা। মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশেই তুরস্ক বা আর্মেনিয়াতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।