Donald Trump-Elon Musk: ইলন মাস্কে মোহভঙ্গ ট্রাম্পের, চাকরি হারাতে বসেছেন টেসলা কর্তা?
Elon Musk: সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হাতে গাছ কাটার যন্ত্র (যাকে বলে চেন শ )নিয়ে হাজির হন স্পেস এক্স কর্তা। ইঙ্গিত দেন, এই যন্ত্র দিয়ে যেভাবে আগাছা কেটে ফেলা হয় সেভাবে তিনি ও তাঁর দফতর ডজ অতিরিক্ত সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই করবে ফেলবেন। তাঁর এই পাবলিসিটি স্টান্টের ব্যাপক সমালোচনা হয় মার্কিনীদের মধ্যে।

দীপেন্দু পাল
টেসলা কর্তা ইলন মাস্কের উপর কি মোহভঙ্গ হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের? এবার কি ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্ত থেকে সরিয়ে দেবেন টেসলা কর্তাকে? চাকরি হারাতে বসেছেন মাস্ক? ইতিমধ্যেই তাঁর ক্যাবিনেট সদস্যদের ডেকে ইলেন মাস্ক এতদিনে কী কী কাজ করেছেন, কত ডলার বাঁচাতে পেরেছেন তার হিসাব চেয়েছেন ট্রাম্প।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ক্যাবিনেট সচিবদের বৈঠক ডাকেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইলন মাস্কও উপস্থিত ছিলেন। শপথ নেওয়ার পরই টেসলা ও স্পেস এক্স-এর মতো সংস্থার কর্তার উপর গুরুদায়িত্ব দেন ট্রাম্প। তাঁকে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্মেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ‘ডজ’-এর প্রধান হিসাবে নিযুক্ত করেন। ফালতু সরকারি খরচে কাটছাঁট, অতিরিক্ত কর্মী ছাঁটাইয়ের দায়িত্ব দেন মাস্কের উপর। সেইমতো মাস্কও দেদার সরকারি কর্মী ছাঁটাই করেন, বাকিদের চাকরি বাঁচাতে চাইলে মাত্রাতিরিক্ত সময় কাজ করার হুঁশিয়ারি দেন। এই নিয়ে বিতর্কও হয় প্রচুর।
বৈঠকে সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওকে আচমকাই মৌখিক আক্রমণ করে বসেন ইলন মাস্ক। স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বরাদ্দ কর্মী ছাঁটাইয়ে ব্যর্থ তিনি, এই বলে তীব্র কটাক্ষ করেন। আরও বলেন, টেলিভিশনে বড় বড় ভাষণ দেওয়া পর্যন্তই ঠিক আছে, তার চেয়ে বেশি কাজের নন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। শুধু ওই শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিককেই নয়, টেসলা কর্তা মার্কিন পরিবহণ সচিব সিয়ান ডাফি-কেও তীব্র ভর্ৎসনা করেন। বলে বসেন, ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে তিনি পর্যাপ্ত কর্মী ছাঁটাই করেননি কেন? পাল্টা সচিব বোঝানোর চেষ্টা করেন, এমনিতেই তাঁর বিভাগে যথেষ্ট লোক ছেঁটে ফেলা হয়েছে। তাঁরা কর্মী সংকটে ভুগছেন। সম্প্রতি মার্কিন আকাশে দুটি বিমান মুখোমুখি হওয়ার পর থেকে ডাফি-র দফতর নিরাপত্তা বিভাগের নজরে রয়েছে। কিন্তু ইলন সেই যুক্তি না মেনেই চেঁচাতে থাকেন, খবর প্রকাশ নিউইয়র্ক টাইমসে।

ইলন মাস্ক।
পত্রিকাটির দাবি, এরপরেই আসরে নামেন খোদ ট্রাম্প। বলেন, মাস্ককে যে দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার প্রতি সমর্থন থাকলেও মাস্ক যেন আর সরকারি কাজে মাস্ক হস্তক্ষেপ না করেন। এবার থেকে ক্যাবিনেট সচিবরাই সরকারি কাজের দেখভাল করবেন, ইলন যেন শুধুই পরামর্শ দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, তাঁর ক্যাবিনেটে মাস্কের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ তাঁর পছন্দ নয়। যদিও হোয়াইট হাউস এই গোটা ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বিবিসি-র কাছে। কিন্তু সূত্রের খবর, মাস্ক ও ক্যাবিনেট সচিবদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা বেঁধে যায় ওই বৈঠকে। পরিস্থিতি সামলাতে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আসরে নামতে হয়।
ইলন মাস্কের আরও একটি কীর্তিও ট্রাম্পের পছন্দ হয়নি বলে দাবি মার্কিন মিডিয়ার। তাঁদের মতে, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হাতে গাছ কাটার যন্ত্র (যাকে বলে চেন শ )নিয়ে হাজির হন স্পেস এক্স কর্তা। ইঙ্গিত দেন, এই যন্ত্র দিয়ে যেভাবে আগাছা কেটে ফেলা হয় সেভাবে তিনি ও তাঁর দফতর ডজ অতিরিক্ত সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই করবে ফেলবেন। তাঁর এই পাবলিসিটি স্টান্টের ব্যাপক সমালোচনা হয় মার্কিনীদের মধ্যে। এমনিতেই আমেরিকায় কাজের অভাব প্রকট, তার উপর মাস্ক ও তাঁর দফতর হাজার হাজার সরকারি কর্মীদের এক-দু মাসের অতিরিক্ত বেতন দিয়ে পদত্যাগ করতে চাপ দিচ্ছে। এমনকী, সরকারি চাকরি পাওয়া বেশ কয়েকজন যোগ্য কর্মীকে চাকরিতে যোগ দিতে দেওয়া হচ্ছে না, প্রবেশন পিরিয়ডেই কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হল, মার্কিন পারমাণবিক দফতরেও বেশ কয়েকজন কর্মীকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে না। আর এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে সদ্য নির্বাচিত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমতে শুরু করেছে বলে দাবি।
ট্রাম্প নিজে অবশ্য এই কাণ্ড কারখানার কথা স্বীকার করেননি। বরং বলেছেন, রুবিও ও মাস্কের মধ্যে যথেষ্ট ভাল সম্পর্ক। তবে ট্রাম্প স্বীকার না করলেও মার্কিন সেনেটে কান পাতলেই মাস্কের প্রতি অনীহা ও বিরক্তি শোনা যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাজকর্মে টেসলা কর্তার হঠকারী ও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপকে ভাল চোখে দেখা হচ্ছে না মোটেও। ফলে মার্কিন মিডিয়ায় জল্পনা, এবার কি দ্রুতই ইলন মাস্কেরও চাকরি যাবে?

