Hantavirus outbreak: করোনা এসেছিল বিমানে করে, Hantavirus কি জাহাজে করে আসছে?
Hantavirus symptoms: ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

যত কাণ্ড ক্রুজ শিপে। প্রমোদতরীতে আরামে কটা দিন কাটাবেন, বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখবেন বলেই উঠেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু সেখানে যা হল, তাতে এখন গোটা বিশ্বই আতঙ্কে। ফের লকডাউন হবে না তো? আবার ঘরবন্দি জীবনে ফিরতে হবে? এই আতঙ্কের নাম হান্টাভাইরাস (Hantavirus)। ইতিমধ্যেই একটি ক্রুজ শিপে, যেখানে বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা রয়েছেন, ভারতীয়রাও রয়েছেন, সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। মৃত্যু হচ্ছে আক্রান্ত যাত্রীদের। করোনার মতো এই ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে না তো?
নেদারল্যান্ডের জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস (MV Hondius)। ওসানওয়াইড এক্সপেডিশন এই প্রমোদতরী পরিচালন করে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া (Ushuaia) থেকে সাউথ আটলান্টিক সাগর ভ্রমণে বেরিয়েছিল ক্রুজ শিপটি। দক্ষিণ আটলান্টিকের আন্টার্কটিকা, সাউথ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা, নাইটেঙ্গেল আইল্যান্ড ঘুরছিল জাহাজটি, আচমকাই গত ৬ এপ্রিল এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পেটের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। মে মাস শুরু হতে হতে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ক্রুজ শিপে, অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনই তাঁর স্ত্রী মৃতদেহের সংস্পর্শে আসার পর তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। আরেক জার্মান নাগরিকের মৃত্য়ুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত কমপক্ষে আটজন। সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।
কী এই হান্টাভাইরাস?
হান্টাভাইরাস হল ইঁদুর বাহিত ভাইরাস, যা থেকে গুরুতর সংক্রমণ হয়। সাধারণত ইঁদুরের মল,মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এছাড়া সংক্রমিত জায়গার সংস্পর্শে এলেও, বা ওই জায়গা পরিষ্কার করতে গিয়ে হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে। জঙ্গল, মাঠ বা ক্ষেত থেকেও মানবদেহে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এক মানবদেহ থেকে আরেক মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।
কত দিন শরীরে থাকে হান্টা ভাইরাস?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মানবদেহে এক থেকে ছয় সপ্তাহ থাকে এই সংক্রমণ। তার থেকে বেশি সময়ও থাকতে পারে হান্টা ভাইরাস। সাধারণত আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়।
উপসর্গ কী কী?
হান্টাভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ হল জ্বর, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, পেটে যন্ত্রণা, বমি, ডায়ারিয়া, তলপেটে ব্যথা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা যায়।
ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তা কেন?
হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তার সবথেকে বড় কারণ হল এই ভাইরাসের কোনও চিকিৎসা নেই। কোনও টিকাও আবিষ্কার হয়নি হান্টাভাইরাস প্রতিরোধের। তাই পর্যবেক্ষণ, সাধারণ চিকিৎসা বা সেবা ছাড়া কোনও আলাদা চিকিৎসা করা যায় না। এশিয়া ও ইউরোপে হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আমেরিকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু হার রয়েছে এই হান্টাভাইরাসের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস অ্যাধানম গ্রেবিয়াসিল জানিয়েছেন, এই ভাইরাস বিরল। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানবদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে এই ভাইরাস। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ছয় সপ্তাহ থাকতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি হেলথ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ডঃ এ মাহামুদ বলেছেন, “২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় এমন পরিস্থিতি দেখেছিলাম যেখানে একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন। এখনও একই পরিস্থিতি। সীমাবদ্ধ জায়গায় নিকটবর্তী কনট্যাক্টের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যদি কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও আইসোলেশনের মতো পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে সংক্রমণের চেইন ভাঙা যাবে।”
এই ক্রুজ শিপে আক্রান্তরা বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইৎজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও সেন্ট হেলেনার বাসিন্দা। আবার এই ক্রুজ শিপে দুইজন ভারতীয় ক্রু সদস্যও রয়েছেন। এরপরই আরও শঙ্কা বেড়েছে, ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে না তো এই মারণ ভাইরাস?
