Ayatollah Ali Khamenei’s Funeral: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেহ কবর দেওয়াই রীতি, ১৩১ দিন ধরে খামেনেইয়ের দেহ তাহলে কোথায় ছিল?
Khamenei's Funeral: জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রয়ারি আমেরিকার এয়ার স্ট্রাইকে ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ রাখা ছিল রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজ ফরেন্সিক মর্গে। আইনি ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করতেই এতদিন দেহ সংরক্ষণ করে রাখা ছিল।

তেহরান: ইরান-আমেরিকার সংঘাত শুরুর আগেই, প্রথম যেদিন ইরানের উপরে আঘাত হেনেছিল আমেরিকা, এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছিল, সেই হামলাতেই মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (৮৬)-র। এরপরে জল গড়িয়ে গিয়েছে অনেকটা। দীর্ঘ প্রায় চার মাস ধরে যুদ্ধ চলেছে। এতদিন ধরে শেষকৃত্য হয়নি খামেনেই-র। অবশেষে ১৩১ দিন পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য হতে চলেছে ইরানের সুপ্রিম লিডারের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি না গেলেও, ভারতের তরফে দুই প্রতিনিধি যাবেন খামেনেই-র শেষকৃত্যে। তবে সকলেরই প্রশ্ন, ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যু হয়েছে খামেনেইয়ের, তাহলে এতদিন কোথায় রাখা ছিল তাঁর দেহ? কেনই বা তাঁর শেষকৃত্য হয়নি এতদিন?
কোথায় রাখা ছিল খামেনেই-র দেহ?
জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রয়ারি আমেরিকার এয়ার স্ট্রাইকে ইরানের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ রাখা ছিল রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজ ফরেন্সিক মর্গে। আইনি ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করতেই এতদিন দেহ সংরক্ষণ করে রাখা ছিল।
কেন এত দেরি হল শেষকৃত্য়ে?
ইসলামিক রীতিতে কঠোরভাবে বলা আছে, মৃত্যুর পরই অবিলম্বে দেহ কবর দিতে হবে। সাধারণত মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কবর দিতে হয় দেহ। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা যেভাবে তেহরান ও ইরানের অন্যান্য শহরে যেভাবে লাগাতার হামলা চালিয়েছে, গোলা-বোমা বর্ষণ করেছে, তাতে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি কার্যত অসম্ভব ছিল।
ইরান-আমেরিকার সংঘর্ষবিরতির পরই প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয় যে এবার প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের শেষকৃত্য করা যাবে জনসমক্ষে। তবুও ইরান এখনও ঝুঁকি নিতে পারছে না। এই কারণেই ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই তাঁর বাবার শেষকৃত্যে সামিল হবেন না। ইজরায়েলের কড়া নজর আছে মোজতবার উপরে। প্রকাশ্যে আসলেই তাঁকে খুন করার চেষ্টা হতে পারে, এই আশঙ্কাতেই এতদিন সামনে আসেননি নয়া সুপ্রিম লিডার।
ইরান প্রশাসনের সামনে আরও বড় একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা হল ভিড় নিয়ন্ত্রণ। ১৯৮৯ সালে আয়াতোল্লাহ রুহোল্লা খোমেনেই ও ২০২০ সালে কাশেম সোলিমানির শেষকৃত্যে অনিয়ন্ত্রিত ভিড় দেখা গিয়েছিল। ইরান সেই ঘটনা এড়াতে চাইছে।
কীভাবে দেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে?
ইসলামে যেহেতু কেমিক্যাল ব্যবহার করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই কারণে খামেনেইয়ের মৃতদেহ এতদিন সংরক্ষণ করা হয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফরেন্সিক মর্গের ভিতরে কোল্ড স্টোরেজে রাখা ছিল খামেনেইয়ের দেহ। শিয়া বিধিতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যেমন যখন কোনও যুদ্ধ চলে, তখন শেষকৃত্যে দেরি করা যায়।
শুক্রবার, ৩ জুলাই আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের কফিন তেহরানের গ্রান্ড মোসাল্লা মসজিদ চত্বরে আনা হয়েছে। ছয়দিন ধরে শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলবে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরে দেহ নিয়ে প্রসেসন করা হবে। এরপর ৯ জুলাই, মাসাদে ইমাম রেজ়ায় তাঁর অন্তিম শেষকৃত্য হবে।
