Iran-Israel Conflict : তেলের দামে এখনই পিছলে যাচ্ছে না ভারত, তাহলে কত হতে চলেছে পেট্রোলের দাম?
Iran-Israel Conflict : সোমবার বিশ্ববাজারে ব্যারেল প্রতি দাম পৌঁছল ৮০ মার্কিন ডলারের উপরে। শুক্রবার এই দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৯ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দুই দিনে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম প্রায় ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব বলছে, ব্যারেল প্রতি ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ বাড়াবে ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ভারতীয় টাকায় ১ হাজার ১৮৮ কোটির বেশি।

নয়া দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ধসে গিয়েছে শেয়ার বাজার। এবার তেলের দামেও আগুন। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। যার জেরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি কার্যত স্তব্ধ। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় বাড়ল ৬ শতাংশ। সেক্ষেত্রে ভারতকেও আজ বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে পেট্রল-ডিজ়েলের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে, জানা গিয়েছে এখনই বাড়ছে না পেট্রোল-ডিজেলের দাম। আপৎকালীন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে আমদানি শুল্ক এবং অন্যান্য লেভি কমিয়ে মানুষের উপর চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে সরকার। সেক্ষেত্রে যুদ্ধ আবহে আপাতভাবে আর্থিক চাপ বহন করতে হবে তেল কোম্পানিগুলিকে। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রতি ব্যারেল তেলের দাম কত ?
জানা গিয়েছে, সোমবার বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট-এর ব্যারেল প্রতি দাম পৌঁছল ৮০ মার্কিন ডলারের উপরে। শুক্রবার এই দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৯ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দুই দিনে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম প্রায় ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব বলছে, ব্যারেল প্রতি ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ বাড়াবে ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ভারতীয় টাকায় ১ হাজার ১৮৮ কোটির বেশি।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ, প্রভাব ভারতে
ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের অশনির মাঝেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত দু মাসে তেল সরবরাহ বাড়িয়েছিল ভারত। এবার ধাক্কা খেতে চলেছে ভারতের ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল। বিপর্যস্ত LNG, LPG সাপ্লাই চেন। হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছয় মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ এলএনজি। অপরিশোধিত তেলের মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ ভারতকে বিশ্ব বাজার থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ৪০ শতাংশই আসে যুদ্ধবিধ্বস্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে। গত দুই মাসে তেল আমদানির নিরিখে হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা পৌঁছেছে ৫০ শতাংশে। সারা পৃথিবীর সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
আমেরিকা থেকে তেল আমদানি বাড়াতে বাধ্য ভারত ?
ভারতের হাতে ৭৪ দিনের তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পূর্বের সমুদ্র পথ ছাড়া তেল সরবরাহের বাকি রাস্তা বিপর্যস্ত। ভেনেজুয়েলার তেল ভারতকে বিক্রি করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই পথ খুলতেই কি ইরান আক্রমণ করে ঘুরিয়ে হরমুজ প্রণালী রুদ্ধ করার ব্লু প্রিন্ট আমেরিকার? সূত্রের খবর, আমেরিকা, ভেনিজুয়েলার মত ল্যাটিন আমেরিকা, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর ভাবনা চিন্তা করছে নয়া দিল্লি। অন্যদিকে গত এক বছরে রাশিয়া থেকে ভারত তেল আমদানি ক্রমশ কমিয়েছে।
