SBI Cyber Attack: দেশের সবথেকে বড় সরকারি ব্যাঙ্কে সাইবার হানা, গ্রাহকদের নাম-বাড়ির ঠিকানাও দেখা যাচ্ছে ডার্ক ওয়েবে!
Cyber Crime: এসবিআই জানিয়েছে, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের কাছ থেকে তারা সতর্কবার্তা পায় যে গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে ডার্ক ওয়েবে। এরপরই তদন্ত শুরু হয়।

নয়া দিল্লি: ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নিজের ব্যক্তিগত যে সমস্ত তথ্য দিয়েছেন, সেটা সুরক্ষিত তো? এই প্রশ্ন তুলে দিল এসবিআই (SBI)। দেশের সবথেকে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সাইবার হানা। চুরি হয়ে গেল গ্রাহকদের তথ্য! কোনও রিপোর্ট নয়, সরাসরি স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (State Bank of India)-ই এই কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
কী ঘটেছে?
স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে এনেছে যে সম্প্রতি তাদের সার্ভারে সাইবার হামলা হয়, যার জেরে হ্যাকাররা ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর সাইবার হানায় মোট ৩৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য (Personally Identifiable Information) চুরি করে ডার্ক ওয়েবে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছে এসবিআই।
প্রসঙ্গত, পার্সোনালি আইডেন্টিফাইয়েবল ইনফরমেশন বা ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য হল যে তথ্যের মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শনাক্ত করা যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির নাম, আধার নম্বর ও প্যান নম্বর, ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, ইমেল আইডি, পাসপোর্ট নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মতো নথিই হল ব্যক্তিগত শনাক্তযোগ্য তথ্য, যা এসবিআই থেকে চুরি করে নিয়েছে হ্যাকাররা।
কী বলছে এসবিআই?
ব্যাঙ্কের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের কোর অপারেশন, ফিন্যান্সিয়াল পারফরম্যান্স বা ব্যবসায় কোনও প্রভাব ফেলেনি এই সাইবার হানা। অর্থাৎ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সচল রয়েছে। সেখানে কোনও প্রভাব পড়েনি।
এসবিআই জানিয়েছে, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিফেন্স সাইবার এজেন্সি এবং ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের কাছ থেকে তারা সতর্কবার্তা পায় যে গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে ডার্ক ওয়েবে।
এরপরই তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ডার্ক ওয়েবে ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার রেকর্ড পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে এসবিআই-র ৩৮৯৭ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত রেকর্ডও রয়েছে। গ্রাহকদের মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ, নাম, লিঙ্গ, ইমেইল অ্যাড্রেস ও ঠিকানা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এছাড়া ব্রাঞ্চের তথ্য, ঋণ সংক্রান্ত মেটা ডেটা (metadata), লিড রেকর্ড সহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও ডার্ক ওয়েবে দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে এসবিআই। তারা যথাযথ পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত জুলাই মাসে ব্যাঙ্ক অব বরোদার ১টিবি গ্রাহকদের তথ্য চুরি যায়।
