Malda: কোলে শিশুকে নিয়ে ছুটে এলেন মহিলা, হাজারো মানুষের ভিড়, মালদহে কি কংগ্রেসের মৌসম বদলে দিলেন গনি-ভাগ্নি?
Mausam Benazir Noor: মৌসমের কংগ্রেসে ফিরে যাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে না জেলা তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, "মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে দেখে ভোট দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে দেখে নয়। ছাব্বিশের নির্বাচনেই তা স্পষ্ট হবে।" রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, গনি খান চৌধুরীর আবেগ মালদহের রাজনীতিতে আজও প্রভাব ফেলে। সেজন্যই মৌসমের কংগ্রেসে ফেরায় এদিন ভিড় উপচে পড়েছিল।

মালদহ: ৬ বছর পর কংগ্রেসে ফিরেছেন তিনি। দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেসের পতাকা ফের হাতে তুলে নেন। তারপর শনিবার ফিরলেন কর্মভূমি মালদহে। আর ফিরে যা দেখলেন, তার জন্য বোধহয় প্রস্তুত ছিলেন না। মালদহ টাউন স্টেশনে তিল ধারণের জায়গা নেই। চারিদিকে শুধু কালো মাথা। কোলে শিশুকে নিয়ে স্টেশনে হাজির যুবতী। সবাই তাঁকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছেন। আর ট্রেন থেকে নেমে এসব দেখে আপ্লুত মৌসম বেনজির নূর। গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নিকে নিয়ে আবেগে ভাসল মালদহ। এই জনজোয়ার দেখে খুশি কংগ্রেস। অনেকদিন পর বাংলার কোনও জেলায় কংগ্রেসের কোনও নেতা-নেত্রীকে নিয়ে এত উচ্ছ্বাস দেখা গেল।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর এদিন মালদহে পৌঁছন মৌসম। তাঁকে এক ঝলক দেখতে দূর দূর গ্রাম থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান মালদহ টাউন স্টেশনে। এক যুবতীকে দেখা গেল, কোলে শিশুকে নিয়ে ছুটতে ছুটতে স্টেশনে যাচ্ছেন। বললেন, মৌসমকে দেখতে যাচ্ছেন। মৌসমের আগমনে যেন রাজনীতির মৌসম বদলে গেল মালদহে। মালদহ দক্ষিণ হোক কিংবা উত্তর, সব এলাকা থেকেই হাজির মানুষ। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বহু তৃণমূল কর্মী সমর্থকও। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। একদিকে যেমন উজ্জীবিত কংগ্রেস, তেমনই জেলায় তৃণমূল যে ভাঙছে, তা স্পষ্ট। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, জেলায় তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এবার বড় থাবা কংগ্রেস যে দিতে চলেছে, তা এই ভিড়, উচ্ছ্বাস আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে যে এবার কংগ্রেস কোমর বেঁধে নামবে, তাও পরিষ্কার করে দিলেন মালদহ দক্ষিণের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী। কার্যত তিনিও বুঝিয়ে দিলেন, কংগ্রেস মৌসমকে পেয়ে নতুন করে সাজবে। তাঁর কথায়, বহু মানুষ তৃণমূল ছেড়ে আসছে, কারণ মালদহ কংগ্রেসেরই গড়। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফাইল নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর কথা, “অদ্ভুত লাগছে, একজন মুখ্যমন্ত্রী এভাবে ফাইল তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।” বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলকেই একহাত নেন তিনি।
৬ বছর পর কংগ্রেসের পতাকা ফের হাতে নেওয়ার পরও সেদিন তৃণমূলকে নিশানা করেননি মৌসম। আর এদিন ভিড় দেখে আপ্লুত মৌসম বললেন, তাঁর তরফে কোথাও না কোথাও ফাঁক ছিল। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চাইছে। আমি প্রত্যেকটা আসনে কাজ করব।” বহু মানুষ যে তৃণমূল ছেড়ে এবার কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দিলেন। অন্যদিকে শুধু নেতা নয়, প্রত্যন্ত গ্রামের কর্মী সমর্থক, ব্লকস্তরের কংগ্রেস নেতা, গ্রামের প্রধান সকলেই যেন মনের জোর ফিরে পেয়েছেন।

ভিড় দেখে আপ্লুত মৌসম বেনজির নূর
মালদহ জেলার ১২টা বিধানসভা থেকেই শয়ে শয়ে মানুষ এদিন আসেন মালদহ টাউন স্টেশন এবং কোতোয়ালিতে। কোতোয়ালি ভবনের সামনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি-সহ মৌসম-ইশার সভাতেও হাজার হাজার মানুষ। কংগ্রেসের বহু নেতারই দাবি, প্রতি বিধানসভা থেকেই কংগ্রেসের শয়ে শয়ে কর্মী সমর্থক ছাড়াও তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও হাজির হয়েছেন। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দক্ষিণ মালদহের সুজাপুর, উত্তর মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, মালতীপুর, রতুয়া থেকে এসেছেন। কংগ্রেসের দাবি, মৌসম আসাতে তৃণমূল ছেড়েছেন অনেক কর্মী। ছাড়ছে আরও। প্রতি বিধানসভা থেকে হাজার, বারোশো করে তৃণমূল কর্মী ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। আরও যোগদান করানো হবে।
তবে মৌসমের কংগ্রেসে ফিরে যাওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে না জেলা তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, “মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে দেখে ভোট দেবেন। কোনও ব্যক্তিকে দেখে নয়। ছাব্বিশের নির্বাচনেই তা স্পষ্ট হবে।” রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, গনি খান চৌধুরীর আবেগ মালদহের রাজনীতিতে আজও প্রভাব ফেলে। সেজন্যই মৌসমের কংগ্রেসে ফেরায় এদিন ভিড় উপচে পড়েছিল। গনি খানের ভাগ্নি এবার বিধানসভা নির্বাচনে মালদহে কংগ্রেসের মৌসম বদলাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।
