Bankura: বাঁকুড়ায় শক্ত ঘাঁটিতে বিজেপিতে ভাঙন, ভোটের আগে শক্তি বাড়াল তৃণমূল
TMC joining: তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, "উন্নয়নকে দেখে ওই পরিবারগুলি তৃণমূলে যোগ দিল। এছাড়া ওই পরিবারগুলি এসআইআর শুনানিতে হেনস্থা হচ্ছে। তাই বিজেপি ছেড়ে আমাদের দলে এল। এতে আমাদের দল শক্তিশালী হবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে আমরা জিতব।"

বাঁকুড়া: দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে বাঁকুড়া এক নম্বর ব্লকের জগদল্লা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরাল তৃণমূল। ভোটের মুখে ওই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ২৫০টি পরিবার গেরুয়া শিবির ছেড়ে যোগ দিল ঘাসফুল শিবিরে। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বাঁকুড়া বিধানসভার জগদল্লা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত। এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৪৩০৫, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে ১২১৪ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ১৬৩৩ ভোটে লিড পায় বিজেপি। কিন্তু এবার সেই গেরুয়া শিবিরেই বড়সড় ভাঙন। বিধানসভা ভোটের মুখে জগদল্লা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২৫০টি পরিবারের পাঁচশোরও বেশি ভোটার এবার গেরুয়া পতাকা ছেড়ে কাঁধে তুলে নিলেন ঘাসফুলের পতাকা।
দলবদলের পর ওই পরিবারগুলির দাবি, এতদিন বিজেপি করে এলেও বিজেপির জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাঁরা কোনও সুযোগ সুবিধাই পাননি। তাই এই দল বদল। টুম্পা বাউরি নামে একজন বলেন, “এতদিন বিজেপি আমাদের কোনও উন্নয়ন, সাহায্য করেনি। তাই আমরা তৃণমূলে এসেছি।” তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই দল বদলের পিছনে এসআইআর-এ মানুষের হয়রানি ও রাজ্য সরকারের ঢালাও উন্নয়নকেই বড় করে দেখছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের আশা, একসঙ্গে এত সংখ্যক ভোটার দল বদল করায় এবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বিজেপিকে পিছনে ফেলে তৃণমূল এগিয়ে যাবে। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, “উন্নয়নকে দেখে ওই পরিবারগুলি তৃণমূলে যোগ দিল। এছাড়া ওই পরিবারগুলি এসআইআর শুনানিতে হেনস্থা হচ্ছে। তাই বিজেপি ছেড়ে আমাদের দলে এল। এতে আমাদের দল শক্তিশালী হবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে আমরা জিতব।”
বিজেপি অবশ্য যোগদানের ঘটনাকে নাটক বলে দাবি করেছে। বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, সম্প্রতি জগদল্লা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পথশ্রীর রাস্তা তৈরি করা নিয়ে দুটি গ্রামের মধ্যে বিবাদ হয়। সেই বিবাদের বিচার চাইতে গ্রামবাসীরা শাসকদলের কাছে গেলে তৃণমূল নেতারা ভয় দেখিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেয়।
