PM Narendra Modi: বারবার চিঠি লিখেছেন মোদী, কিন্তু পড়েননি মমতা… আজ সিঙ্গুরের মঞ্চে খোলাখুলি এ বিষয়ে কথা মোদীর
PM Narendra Modi at Singur: বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে কথা তো বলেনই, সঙ্গে বাংলা যে শিল্প-বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কতটা সম্ভাবনাময় একটি জায়গা, তা ভোট আবহে জমি আন্দোলনের মাটিতে দাঁড়িয়ে আরও একবার বঙ্গবাসীকে বুঝিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে এটাও বলে গেলেন, বিনিয়োগ তখনই আসবে, তখন বাংলা থেকে দূর হবে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে।

হুগলি: ছাব্বিশের নির্বাচনে হটসিট সিঙ্গুর! অন্তত জমি আন্দোলনের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভা, টাটা-কে ফেরত আনার ক্ষেত্রে বিজেপি নেতাকের লাগাতর প্রতিশ্রুতি সেই দিকেই খানিকটা ইঙ্গিত দিচ্ছে। টাটা গোষ্ঠীর তৎকালীন কর্ণধার রতন টাটা ঘোষণা করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর থেকে তিনি প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গুজরাটে! তখনই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল ‘গুড M’, ‘ব্যাড M’ এর কথা! আজ প্রায় ২০ বছর পর এই সিঙ্গুরের মাটিতে আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে ‘গুড M’ শব্দবন্ধ। সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী। স্লোগান তুললেন, ‘পাল্টানো দরকার।’ বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে কথা তো বলেনই, সঙ্গে বাংলা যে শিল্প-বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কতটা সম্ভাবনাময় একটি জায়গা, তা ভোট আবহে জমি আন্দোলনের মাটিতে দাঁড়িয়ে আরও একবার বঙ্গবাসীকে বুঝিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে এটাও বলে গেলেন, বিনিয়োগ তখনই আসবে, তখন বাংলা থেকে দূর হবে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে। কেন ছাব্বিশে বিজেপি-কে সরকারে আনা উচিত, কেন ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়োজন রয়েছে বাংলায়, তা পয়েন্ট ধরে ধরে তুলে ধরলেন।
প্রথমেই বললেন ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ অর্থাৎ ‘এক জেলা এক পণ্য’ স্কিমের কথা। কী এই স্কিম? তিনি বলেন, “বিজেপি বাংলার বিকাশে গতি আনবে। বাংলায় বিকাশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ধনিয়াখালির শাড়ি রয়েছে, জুট রয়েছে, হ্যান্ডলুম রয়েছে। বিজেপি ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ স্কিমের দ্বারা প্রত্যেক জেলার প্রোডাক্ট উৎপাদনে উৎসাহ দেবে।” তিনি এটাও জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্লাস্টিক নিয়ে কঠোর রীতি বানানো হবে। জুটের প্যাকেজিংয়ের ওপর আরও নজর দেবে।
মোদীর মুখে ‘ধুম মাচায়ে…’
পাশাপাশি বাংলার সবজি বিশ্বের বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের ভবিষ্যৎ ‘স্বপ্ন’ নিয়ে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, “আলু-পেঁয়াজ এখানে ভীষণ ভাল হয়। বিশ্বে সবুজ সবজির প্রচুর চাহিদা, প্যাকেট সবজির জন্য বিশ্বে বড় মার্কেট রয়েছে। আমার স্বপ্ন বিশ্বের সব বাজারে বাংলার কৃষি-চাষি-মৎস্যজীবীর উৎপাদন ‘ধুম মাচায়ে’। দেশ জুড়ে ফুড প্রসেসিং ফেসিলিটি ও কোল্ড স্টোরেজে চেইন বানানোর কাজ হচ্ছে। বিজেপি সরকার এই কাজকে আরও তরন্বিত করবে।”
‘কতবার চিঠি লিখেছি’
বাংলায় তৃণমূল সরকার কীভাবে গরিবদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করছে, সেকথা আগেও বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে বলে গিয়েছেন মোদী। সেটা আয়ুষ্মান ভারত হোক কিংবা পিএম শ্রী স্কুল! কিন্তু কীভাবে মৎস্যজীবীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, তাও এবার উদাহরণ দিয়ে বোঝালেন মোদী। তাঁর কথায়, “এখান থেকে যত মাছ এক্সপোর্ট হয়, তার থেকে অনেক বেশি উৎপাদনের ক্ষমতায় বাংলায় রয়েছে। বাংলার মৎস্যজীবীদের মধ্যে সেই শক্তিও রয়েছে। আমাদের মৎস্যজীবীদের সাহায্য, উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন। দেশের মৎস্যজীবীদের জন্য একটা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্ম বানানো হয়েছে। দেশের রাজ্য সরকার নিজেদের রাজ্যের মৎস্যজীবীদের নাম রেজিস্ট্রার করাচ্ছেন, কিন্তু বাংলায় এই কাজে ব্রেক লাগানো হয়েছে।” এক্ষেত্রে কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যকে একাধিকবার চিঠিও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সে চিঠির কোনও উত্তর মেলেনি বলে মোদী জানালেন।
মোদী বললেন, “আমি বারবার চিঠি লিখি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পড়েন না।” তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী নাই পড়তে পারেন, কিন্তু অফিসাররা তো পড়তে পারতেন!”
‘ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা’
‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার কীভাবে দিল্লি, ত্রিপুরায় উন্নয়নের জোয়ার এনেছে, তার দৃষ্টান্ত খাড়া করেন। বঙ্গবাসীর কাছে তাঁর একটাই অনুরোধ, ‘আপনার ভোট প্রয়োজন, সেটাই বাংলায় টিএমসি-র মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করবে।’ ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মোদী স্লোগান তুলে গেলেন, ‘পাল্টানো দরকার।’
