Humayun Kabir: তৃণমূল যোগাযোগ করছে হুমায়ুনের সঙ্গে? বড় ইঙ্গিত
Humayun Kabir on TMC: হুমায়ুন কবীর বলেন, "মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে ৪৯টা আসন রয়েছে। আমায় ১৪টা আসন ছাড়তে চাইছ। কিন্তু, এই ৪৯টা আসনের মধ্যে ৩৫টা আসনে জিতব।" রেজিনগরের বাসিন্দাদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "রেজিনগরে আমার দলের যেই দাঁড়াক, ৭৮ হাজার লিড হওয়া চাই।"

রেজিনগর: সিপিএম, মিম, আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু, তাঁর দলের সঙ্গে কি মুর্শিদাবাদে আসন রফা করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস? বিস্ফোরক দাবি করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। রবিবার তিনি দাবি করেন, মুর্শিদাবাদে ১৪টি আসন তাঁর দলকে ছাড়তে চেয়ে যোগাযোগ করেছে রাজ্যের শাসকদল। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্য করবেন তিনি।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে জয়ী হন হুমায়ুন। কিন্তু, তৃণমূলের সঙ্গে গত কয়েকমাসে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল। শেষপর্যন্ত তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করে। তারপরই নতুন দল গঠন করেন হুমায়ুন। আর নতুন দল গঠনের পর থেকে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে এদিন রেজিনগরে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাকে এবার ভরতপুরেই তৃণমূল টিকিট দেবে কি না, সেই আলোচনা চলছিল। দু’দুটো ব্লক সভাপতি, জেলা সভাপতিকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে রেখেছিল তৃণমূল। আর এখন কেমন লাগছে। এখন বলছে, মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ১৪টা তুমি নিয়ে নাও। আর ৮টা আমরা নিই। আমাদের সঙ্গেই থাকো। লজ্জা করে না। আজকে ১৪টা সিট ছাড়তে চাইছ। ২২টা আসনেই শূন্য করব। ২২টা আসনই ছিনিয়ে নেব। তারপর বিধানসভায় গিয়ে হিসাব-নিকাশ বুঝব। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে ৪৯টা আসন রয়েছে। আমায় ১৪টা আসন ছাড়তে চাইছ। কিন্তু, এই ৪৯টা আসনের মধ্যে ৩৫টা আসনে জিতব।” রেজিনগরের বাসিন্দাদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরে আমার দলের যেই দাঁড়াক, ৭৮ হাজার লিড হওয়া চাই।”
এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেন হুমায়ুন। বলেন, “আমি খিদিরপুরে গিয়েছিলাম। আমাকে ঘিরে ধরে সেখানে মারতে আসছে। সিপিএমের বিরুদ্ধে রাজনীতি করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ২৭টা মামলা হয়েছিল। একটানা ৮১ দিন জেলে ছিলাম। তাই বলছি, আগামী দিনে যা হওয়ার হোক, ববি হাকিম যেদিন মুর্শিদাবাদে আসবে, ওর কলার ধরে নামাব। তারপর যদি জেল খাটতে হয় খাটব। কিন্তু, ববি হাকিম তোমাকে আস্ত ফেরত যেতে দেব না। তুমি কত বড় দাদা হয়েছ খিদিরপুরের মাটিতে, মুর্শিদাবাদের মাটিতে তোমাকে দেখাব আমি। তুমি যদি বন্দরের দাদা হও, গোটা মুর্শিদাবাদের দাদা হুমায়ুন কবীর।” এদিন তিনি আরও বলেন, “২৮ ফেব্রুয়ারি সম্ভবত ভোট ঘোষণা হবে। নির্বাচনের জন্য দুই মাস থাকবে। সেই সময়ে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরার লোক পর্যন্ত থাকবে না।”
হুমায়ুনের দাবি নিয়ে বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “হুমায়ুন যা দাবি করছেন, তা যদি সত্যি হয়, তাহলে অভিষেক চাপে পড়েছেন। হুমায়ুনের ভোট কাটাকাটিতে তৃণমূল শূন্য হয়ে যেতে পারে। ফলে ওদের যে গটআপ ছিল, সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল।”
