e

ব্যারাকপুর: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে ২ জন মোমো কোম্পানির আধিকারিক। কিন্তু, মোমো কোম্পানির মালিককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলে সরব শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁরই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর গলায়। শনিবার ব্যারাকপুরে বিজেপির কর্মিসভা থেকে আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন শাহ। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই অগ্নিকাণ্ডে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে।
এদিন ব্যারাকপুরে আনন্দপুরী মাঠে বিজেপির কর্মিসভা থেকে বক্তব্যের শুরুতেই শাহ বলেন, “সবার প্রথম আনন্দপুরে মোমো কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে মৃত সব শ্রমিককে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে আমি বক্তব্য শুরু করতে চাই। এই যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়। আনন্দপুরে গুদামে যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকারের দুর্নীতির জেরে হয়েছে।”
এরপর তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৭ জন নিখোঁজ। কেন এটা হল? মোমো কোম্পানিতে কার টাকা খাটে? মোমো কোম্পানির মালিক কার সঙ্গে বিদেশে গিয়েছেন? মোমো কোম্পানির মালিক এখনও কেনও গ্রেফতার হল না? আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করতে চাই, এরা যদি অনুপ্রবেশকারী হত, তাহলে কি আপনার প্রতিক্রিয়া এমনই হত? মৃতরা বাংলার নাগরিক। এর মধ্যে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি কেন করছেন?”
এই অগ্নিকাণ্ডে অভিযুক্তদের হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন, “এই ঘটনায় জড়িতদের জেলে ঢোকানো উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতি আর ঢাকা পড়বে না। আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড বলছে, অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোকজন জড়িত। ৩২ ঘণ্টা পর মন্ত্রী সেখানে পৌঁছন। জলা জমিতে গোডাউন বানানো হয়েছে। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি, পর্দা যতই দিন, এপ্রিলের পর বিজেপি সরকার আসবে, আর এই অগ্নিকাণ্ডে অভিযুক্তদের জেলে পাঠানো হবে। ২০২৬ সাল , তৃণমূলকে টাটা জানানোর বছর।”
অমিত শাহর মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, “উনি সেই দলের নেতা, যেই দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী গতকাল প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন, তখন ডিজে বাজছিল। মনে হচ্ছিল, বিয়েবাড়িতে নাচতে যাচ্ছেন। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি। অমিত শাহ যখন একথা বলছেন, তখন মধ্য প্রদেশে দূষিত জল খেয়ে এত মৃত্যুর কথা তো বলছেন না। আর তাঁর সঙ্গেও অনেকের ছবি রয়েছে। তাঁরা কি তাঁর লোক? আর বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন পূরণ হবে না। স্বপ্ন-ই থেকে যাবে।”