
কলকাতা: বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে গিয়ে কি কথা বলছেন প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? বিজেপি নেতারা এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে। আর একধাপ এগিয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে সওয়াল করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু, তাঁর এই মন্তব্যেই ঘোর আপত্তি বঙ্গ বিজেপির। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে স্বয়ং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলে দিলেন, বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন তমলুকের সাংসদ।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনও বাকি নেই। নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন নেতারা। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল হারবেই বলে দাবি বঙ্গ বিজেপির। কথায় কথায় তৃণমূলের দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে তোপ দাগছেন বিজেপি নেতারা। এরইমধ্যে গতকাল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমার মনে হয় এই সরকারের আর একদিনও ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। যদিও আইনগতভাবে তারা রয়ে যাচ্ছে। আশা করি এর মধ্যেই কিছু কেলেঙ্কারি ফাঁস হবে। তখন আবার একটা জোরদার আওয়াজ উঠবে। আমার মতে কয়েকদিনের মধ্যে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে, ৭২ ঘণ্টা বনধ ডাকা উচিত। যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, যতক্ষণ না রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলা উচিত।”
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যখন রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলছেন, তখন প্রজাতন্ত্র দিবসের এক অনুষ্ঠানে এদিন শমীক বলেন, “অনেকে আসছেন। আমাদের বলছেন, কিছু তো করুন। আপনাদের এত কর্মী খুন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, বিশ্বাস করুন, আমরা দলগতভাবে কোনও নির্বাচিত সরকারকে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে ফেলে দেওয়ার পক্ষে নই। একাজ আমরা কোনওদিন করিনি। কংগ্রেস কিন্তু, একাধিক জায়গায় সরকার ফেলে দিয়েছিল। দিনের পর দিন ৩৫৬ ধারাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস বুলডোজার চালিয়েছে।”
এরপরই অবশ্য তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটার পর একটা স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে ফাইল ছিনতাই করছেন, সেই রাজ্যে গণতন্ত্র কি অবশিষ্ট রয়েছে? আমাদের এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির কাছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। রাজ্যে আদৌ সংবিধান রয়েছে কি না, রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি দেখুন।”