
নয়া দিল্লি : ভোটের আর বেশি দিন বাকি নেই। উত্তর প্রদেশে এখনও জারি দলবদলের রাজনৈতিক খেলা। শাসক দল বিজেপি ছেড়ে অখিলেশের হাত ধরে চমক দিয়েছেন একাধিক বিধায়ক। আবার খোদ যাদব পরিবারে সদস্য অপর্ণা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। আর এবার রাহুল ঘনিষ্ঠ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দলে নিয়ে আরও বড় চমক দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবারই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন রণজিৎ প্রতাপ নারায়ণ সিং। উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের তারকা প্রচারকের তালিকাতেও নাম ছিল এই নেতার। তিনি গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত।
ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে আরপিএন সিং-এর বিজেপিতে যোগদান কংগ্রেস শিবিরের কাছে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মঙ্গলবার দুপুরেই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা। এ দিনই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা টুইট করে জানান আরপিএন সিং। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি। সোমবারই টুইটারের বায়ো থেকে কংগ্রেসের নাম বাদ দেন তিনি। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানান কংগ্রেস ছাড়ার কথা।
সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনে আরপিএন সিং-কে টিকিট দিচ্ছে বিজেপি। উত্তর প্রদেশের পাদরাউনা আসন থেকে স্বামী প্রসাদ মৌর্যের বিরুদ্ধে লড়তে পারেন তিনি।
কুশীনগরের রাজপুত পরিবারের সন্তান আরপিএন সিং। পাদরাউনা থেকে বিধায়ক হয়েই রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। শুধু আরপিএন সিং নন, তাঁর বাবাও কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর বাবা সিপিএন সিং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। আরপিএন সিং-ও সোনিয়া গান্ধীর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
আরপিএন সিং-এর পরিবার কুশীনগরে বেশ প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। এ ছাড়া জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো আরপিএন সিং-ও রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবেই পরিচিত। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে যে তারকা প্রচারকের তালিকা প্রকাশ করেছিল কংগ্রেস, তাতেও নাম ছিল আরপিএন সিং-এর। তাই তাঁর দলবদল গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপি যখন আরপিএন সিং-এর মতো নেতাকে হেভিওয়েট বলে উল্লেখ করছেন, তখন তৃণমূলের দাবি হেভিওয়েট নয়, আসলে ডেডওয়েট। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র টুইটে লেখেন, এক দশক ধরে যাঁরা ভোটে জেতেনি, তাঁদের দলে নিচ্ছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: Accident in Maharashtra: ব্রিজ ভেঙে হুড়মুড়িয়ে নীচে পড়ল গাড়ি! বিজেপি বিধায়কের পুত্র-সহ মৃত ৬