মুকুলের জয়-মমতার হার, জিতল তৃণমূলই

প্রত্যয়ী মুকুল বারবার বিজেপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে যে দাবি করে গিয়েছেন তা মিলল না।

মুকুলের জয়-মমতার হার, জিতল তৃণমূলই
ফাইল চিত্র

কৃষ্ণনগর: আপাতত মুকুল রায়ের (Mukul Roy) স্ট্রাইক রেট ৫০। তাও ০ থেকে ৫০ হতে সময় লাগল ২০ বছর। কেন? কারণ ঠিক ২০ বছর আগে নির্বাচনে লড়েছিলেন মুকুল রায়। তারপর আর ভোটের ময়দানে দেখা যায়নি তাঁকে। কিন্তু ২০ বছর পর বিজেপির টিকিটে বিধানসভার লড়াইয়ে নেমেই বাজিমাত করলেন মুকুল। কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় ৩৪ হাজার ১৩৪ ভোটে জয়ী তিনি। আর এই বিধানসভা নির্বাচনে দলকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে নিজে হেরে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনীতির এ যেন গভীর সমাপতন। এক নেতা ২০ বছর পর জিতছেন, আর জয়ী নেত্রী হেরে যাচ্ছেন। তবে দু’জনের মধ্যে মিল একটাই, একেবারে তৃণমূলের জন্মলগ্নের সদস্য দু’জন।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল গড়ার সময় মমতার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন তিনিই। খাতায় কলমে মুকুল রায়ই তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু ২০ বছর আগে জোড়াফুল প্রতীকে বিধানসভা ভোটে লড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভাল নয় তাঁর। ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে উত্তর চব্বিশ পরগনার জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু ফরওয়ার্ড ব্লকের হরিপদ বিশ্বাসের কাছে হেরে যান মুকুল। এরপর আর জনপ্রতিনিধি হওয়ার লড়াইয়ে নামেননি তিনি। কিন্তু দলবদল করে বিজেপিতে এসে বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে হল মুকুলকে। লড়লেন, জিতলেনও। কিন্তু প্রত্যয়ী মুকুল বারবার বিজেপির ক্ষমতায় আসা নিয়ে যে দাবি করে গিয়েছেন তা মিলল না।

২০০ আসনের টার্গেটে তিন সংখ্যাও পৌঁছল না বিজেপি। মুকুলের কুড়ির গেরো কাটলেও সাতের ঘরেই থমকে গেল গেরুয়া শিবির। দলবদলুদের মধ্যে হাতো গোনা কয়েকজন জিতলেন। মুকুলের হাত ধরে তৃণমূলের যে ভাঙনে ফুলেফেঁপে উঠেছিল বিজেপি, তা খুব একটা কাজে এল না। দলবদলুদের মধ্যে মমতাকে হারিয়ে নন্দীগ্রামে জিতলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেখানেও সংশয়। নাটকীয় ভাবে প্রথমে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর নাটকীয় মোড়। শেষবেলায় কমিশন জানাল জয়ী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠকে হার স্বীকার করে নিলেন মমতা। বললেন, “মানুষের রায় মাথা পেতে নিলাম। জিতলে ওখানে বারবার যেতে হত, যা হয়েছে ভালোর জন্য হয়েছে।” তবে আদালতে যাবেন তিনি। প্রশ্ন তুললেন, “কীভাবে বদলে গেল ফল?” জানালেন, তাঁর কাছে খবর আছে শেষ মুহূর্তে কারচুপি হয়েছে।

কিন্তু একদা মমতা-মুকুলের যে সখ্য সম্পর্কে সকলে অবগত ছিলেন, তা এখনও আর নেই। তৃণমূল ছাড়ার পর ক্রমেই দূরত্ব বেড়েছে কালীঘাটের সঙ্গে। বিশ বছর পর মুকুল জিতলেন কিন্তু মমতা হেরে গেলেন। তবে জিতল তৃণমূলই।

আরও পড়ুন: রাহুল-সনিয়াকে ছাপিয়ে মমতাই কি জাতীয় রাজনীতির বিরোধী মুখ!