Pradeep Rawat Funeral: ‘ও না থাকলে গজনি হিট হত না!’ প্রদীপের বিদায়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য আমিরের, স্মৃতিতে ডুব দিলেন সলমন
Actor Pradeep Rawat dies at 74: প্রয়াত 'গজনি' খ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত। তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়ার খবর আসতেই পুরো বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুম্বইয়ে শেষশ্রদ্ধা জানাতে হাজির আমির খান, আশুতোষ গোয়ারিকর। আবেগঘন বার্তা সলমন খানেরও। কী বলেছেন তিনি?

প্রয়াত বলিউড অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত (Pradeep Rawat)। বিআর চোপড়ার ‘মহাভারত’ ধারাবাহিকের সেই বীর ‘অশ্বত্থামা’ কিংবা ‘গজনি’ ছবির হাড়হিম করা খলনায়ক, প্রতিটি রূপেই যাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকদের চমকে দিত, সেই মানুষটিই জীবনের যুদ্ধ হেরে গেলেন। মারণ ব্যাধি ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করার পর ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তাঁর এই হঠাৎ চলে যাওয়ার খবর আসতেই পুরো বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ে যখন তাঁর শেষকৃত্যের কাজ চলছিল, তখন শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে ছুটে এসেছিলেন সিনেমার জগতের মানুষজন।‘লগান’ ছবির পুরো টিম যেন আবার এক জায়গায় জড়ো হয়েছিল। তবে এবার কোনও সেলিব্রেশন বা আনন্দের কারণ ছিল না, চোখের জলে প্রিয় ‘সোধি’কে বিদায় জানাতেই তাঁরা এক হয়েছিলেন। সেখানে নিজে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন অভিনেতা আমির খান (Aamir Khan) ও বিখ্যাত পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর (Ashutosh Gowariker)। আবেগঘন হয়ে আমির বলেন, “প্রদীপ না থাকলে ‘গজনি’ সিনেমাটা হয়তো হিটই হত না। ওর মতো সাহসী অভিনয় খুব কম মানুষই করতে পারেন।”
আমিরের পাশাপাশি নিজের দুঃখ চেপে রাখতে পারেননি বলিউডের ভাইজান সলমন খান (Salman Khan)। ১৯৯০ সালে তৈরি ‘বাঘি’ ছবিতে দুজনে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। পুরনো সেই স্মৃতি মনে করে সোশাল মিডিয়ায় সলমন লেখেন, “শান্তিতে থেকো ভাই প্রদীপ রাওয়াত। তোমার সঙ্গে কাটানো এত সুন্দর সুন্দর দিনগুলোর কথা আজ খুব মনে পড়ছে।” অন্য দিকে, প্রদীপের সহশিল্পী সুরেন্দ্র পাল জানান যে তাঁরা দুজনে একই বিল্ডিংয়ে থাকতেন। তাই শুটিংয়ের বাইরেও তাঁদের মধ্যে রক্তের সম্পর্কের মতো টান ছিল। কাজের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও প্রদীপ খুব ভালো মনের মানুষ ছিলেন।
বেশ কিছু দিন ধরে ব্লাড ক্যানসারে ভোগার পর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে প্রদীপকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে গেলেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গিয়েছেন স্ত্রী কল্যাণী রাওয়াত ও ছেলে বিক্রমাদিত্যকে। হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও মলয়ালম ভাষার দেড়শোরও বেশি ছবিতে কাজ করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম আর অসাধারণ অভিনয় দিয়ে যাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তাঁর এই বিদায়ে ভারতীয় সিনেমার এক রূপোলি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

