Assam Flood Relief: ত্রাণ পাঠিয়েই শেষ নয়! এবার অসমে ৫০০ পরিবারের জন্য যা করতে চলেছেন সলমন, চোখ কপালে উঠবে
Assam Floods 2026: অসমের ছয় দশকের ভয়াবহতম বন্যায় যখন গৃহহীন হাজার হাজার মানুষ, ঠিক তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে পাশে এসে দাঁড়ালেন বলিউডের 'ভাইজান'। অন-গ্রাউন্ডে কাজ করা অভিনেতা রণদীপ হুডার কাছ থেকে পরিস্থিতি জানার পরেই তড়িঘড়ি বড় পদক্ষেপ করেন সলমন খান। '

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম। গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন সেখানকার হাজার হাজার মানুষ। জল কমলেও কাটেনি বিপর্যয়, মাথার ওপর ছাদ হারিয়ে গৃহহীন বহু পরিবার। এমন এক কঠিন সময়ে অসমের বানভাষী মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান।
কেবল ত্রাণ বা খাবার পাঠানোই নয়, এবার বানভাষীদের স্থায়ী আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সলমন খানের সংস্থাও। এক এনজিওর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৫০০টি অস্থায়ী অথচ শক্তপোক্ত ঘর তৈরি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা।
কীভাবে শুরু হল এই উদ্যোগ?
ত্রাণকার্যের প্রথম ধাপে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের পর এবার পুনর্বাসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অসমের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির অন্যতম শিবসাগরের নেপালি খুটি গ্রাম। সূত্রের খবর, সম্প্রতি অভিনেতা রণদীপ হুডার অন-গ্রাউন্ড ত্রাণকাজের কিছু ভিডিয়ো সলমনের নজরে আসে। রণদীপ সেখানে ‘গ্লোবাল শিখস’ নামক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সেবা করছেন। ভিডিয়ো দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি ভাইজান। এক পারস্পরিক বন্ধুর মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে রণদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
বাঁশ ও টিনের তৈরি ‘ফ্লাড-প্রুফ’ বাড়ি
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিংহ এবং রণদীপের সঙ্গে কথা বলার পরেই সলমন জানতে পারেন তাঁদের বিশেষ ভাবনার কথা। জলমগ্ন এলাকায় মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে বাঁশ ও টিনের শেড দিয়ে বিশেষ ধরণের ‘ফ্লাড-প্রুফ’ বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বিষয়টি জানা মাত্রই ‘বিয়িং হিউম্যান’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান সলমন। একযোগে ৫০০টি বাড়ি তৈরির অঙ্গীকার করা হয়।
ইতিমধ্যেই নেপালি খুটি এলাকায় ২২০টি বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি করে বাড়ি তৈরি করছেন উদ্ধারকারীরা। ‘গ্লোবাল শিখস’-এর প্রধান অমরপ্রীত সিং জানান, সলমন খান নিজে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দিয়েছেন, “আপনারা একদম চিন্তা করবেন না, আমরা পাশে আছি।”
অন্যদিকে, শিবসাগর রেল স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য প্রতিদিন লঙ্গর চালিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন অভিনেতা রণদীপ হুডা। তিনি জানান, “মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম আর কিছু হতে পারে না। বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।” বলিউডের এই সম্মিলিত প্রয়াস এখন অসমের গৃহহীন মানুষের মুখে ফেরাচ্ছে কিছুটা স্বস্তির হাসি।
