অনামিকা, তুমি ব্রা পরোনি? সন্ধ্যা রায়ের প্রশ্নে থতমত খেলেও এতদিন পর সত্য সামনে আনলেন অভিনেত্রী
টলিউডেরই এক অন্ধকার অধ্য়ায়কে সামনে নিয়ে আসলেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। আর তা বলতে গিয়েই একের পর এক বোমা ফাটালেন সকলের প্রিয় 'বিন্দু মাসি'।

গ্ল্যামার দুনিয়ায় ক্যামেরার ঝলকানির ওপারে রয়েছে আরেক জগৎ। সেখান থেকে মাঝে মধ্যেই বেরিয়ে আসে নায়ক-নায়িকা সংবাদ যা ততটাও ঝলমলে নয়। টলিউডের পাঁজর ভেঙে মাথা বের করে এমন সব অভিযোগ, এমন সব দাবি যা অনুরাগীদের হতবাক করে দেয়। সম্প্রতি এক ইউটিউব চ্যানেলে তেমনটাই ঘটল। টলিউডেরই এক অন্ধকার অধ্য়ায়কে সামনে নিয়ে আসলেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনামিকা সাহা। আর তা বলতে গিয়েই একের পর এক বোমা ফাটালেন সকলের প্রিয় ‘বিন্দু মাসি’। মারাত্মক সব অভিযোগ তুললেন বাংলার কিংবদন্তি অভিনেত্রী তথা নায়িকা সন্ধ্যা রায়ের বিরুদ্ধে। অনামিকার অভিযোগ, সন্ধ্যা রায় দিনের পর দিন তাঁর উপর মানসিক ও দৈহিক অত্য়াচার করেছেন! আর এসবের সূত্রপাত নাকি তরুণ মজুমদারের জনপ্রিয় ছবি খেলার পুতুল-এর শুটিং ফ্লোরে।
সময়টা সাতের দশকের শেষ,আটের দশকের শুরু। তরুণ মজুমদার তৈরি করছেন ‘খেলার পুতুল’। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বাঘা বাঘা অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়,সন্ধ্যা রায়,অনুপ কুমার,তরুণ কুমার। এই ‘খেলার পুতুল’ ছবিতেই অনুপ কুমারের স্ত্রীয়ের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল অনামিকা সাহাকে। অনামিকার অভিযোগ, এই ছবির আউটডোর শুটিংয়ের সময় চরিত্রের প্রয়োজনেই ব্রা না পরায় তাঁকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছিলেন সন্ধ্যা রায়।
সেদিন কী ঘটেছিল অনামিকার সঙ্গে?
অনামিকার বয়ান অনুযায়ী, ‘খেলার পুতুল’ ছবির শুটিং করতে পুরো টিমকে নিয়ে বোলপুর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে অযোধ্যা নগরে গিয়েছিলেন পরিচালক তরুণ মজুমদার। সেদিন শুটিংয়ে ছিলেন সন্ধ্যা রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অনামিকা সাহা। শুটিং শুরুর আগে হঠাৎ সন্ধ্যা রায় ডেকে পাঠালেন অনামিকাকে। অনামিকা ঘরে ঢুকতেই, সন্ধ্যা রায় বলে উঠলেন, ‘তুমি ব্রা পরোনি!’ সন্ধ্য়া রায়ের এমন প্রশ্নে রীতিমতো থতমত খেয়ে গিয়েছিলেন অনামিকা। কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলেন। তবুও নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে সন্ধ্যা রায়কে তিনি জানান, ব্রা পরেননি এবং সঙ্গে এও জানান, তরুণ মজুমদার ও কস্টিউমের দায়িত্বে থাকা সত্যদার কথাতেই তিনি এমনটা করেছেন। অনামিকার মুখে এই দুই নাম শোনার পর সেদিন সন্ধ্যা রায় আর কিচ্ছুটি বলেননি। তবে এখানেই শেষ করেননি অনামিকা। এরপর সন্ধ্যা রায়ের বিরুদ্ধে আনেন আরও মারাত্মক অভিযোগ। অনামিকা জানান, খেলার পুতুল ছবির এক দৃশ্যে অভিনয়ের সময়, দৃশ্যটি একেবারে বদলে ফেলেন সন্ধ্যা রায়। চিত্রনাট্যে থাকা একটা চড়ের বদলে, তাঁর চুল ধরে টেনে বাঁশের মধ্যে এমন ভাবে মাথা ঠুকে দিয়েছিলেন যে, মাথা ফুলে ঢোল! গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।

খেলার পুতুল ছবিতে সন্ধ্যা রায় ও অনামিকা সাহা।
কেন এমনটি করেছিলেন সন্ধ্যা, কী ব্যাখ্যা অনামিকার?
খেলার পুতুল ছবির আউটডোর শুটিংয়ে কাকতালীয়ভাবে তাঁর হোটেল রুমের পাশের ঘরটিই ছিল তরুণ মজুমদারের। অনামিকার মতে, বিষয়টি নাকি ভালভাবে গ্রহণ করেননি সন্ধ্যা রায়। অনামিকার ধারণা, সন্ধ্যা রায় তাঁর স্বামী তথা পরিচালক তরুণ মজুমদারের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত নৈকট্য বাড়ুক তা পছন্দ করতেন না। সেই কারণেই নাকি এমন দুর্ব্যবহার। শুধু তাই নয়, অনামিকা এমনটাও মনে করেন, সন্ধ্যা রায় নাকি অনামিকার অভিনয় দক্ষতা দেখে কিছুটা অস্তিত্ব সংকটেও ভুগতেন। আর এই সব কিছুর আভাস, খেলার পুতুল ছবির আউটডোর শুটিংয়ে গিয়ে পেয়েছিলেন অনামিকা সাহা।
আড্ডা স্টেশন নামের এক ইউটিউব চ্যানেলকে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন অনামিকা সাহা।





