‘…ভয়ঙ্কর অসুখ ছড়িয়ে পড়েছে’, কোন সত্য সামনে আনলেন অপরাজিতা আঢ্য?
এই ধরনের আচরণ স্রেফ ‘অসভ্যতা’ নয়, বরং এক গভীর মানসিক ব্যাধি। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ এতটাই সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছেন যে, তাঁরা অসুস্থ মানুষের ছবি নিয়ে বিদ্রূপ করতে বা কারও শোকের মুহূর্তে অশালীন মন্তব্য করতেও দ্বিধা বোধ করছেন না। এই ধরনের সাইবার বুলিং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করছে, যা আর হালকাভাবে নেওয়া সম্ভব নয়।

ডিজিটাল পর্দার আড়ালে বসে অন্যকে অপমান করা কি এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তে থাকা নোংরামি আর ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। অতীতে বহুবার ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েও সংযত ছিলেন তিনি, এমনকি শান্তি বজায় রাখতে নিজের কমেন্ট বক্সও বন্ধ রেখেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখন সহ্যের সীমা ছাড়িয়েছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রী।
অপরাজিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণ স্রেফ ‘অসভ্যতা’ নয়, বরং এক গভীর মানসিক ব্যাধি। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ এতটাই সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেছেন যে, তাঁরা অসুস্থ মানুষের ছবি নিয়ে বিদ্রূপ করতে বা কারও শোকের মুহূর্তে অশালীন মন্তব্য করতেও দ্বিধা বোধ করছেন না। এই ধরনের সাইবার বুলিং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করছে, যা আর হালকাভাবে নেওয়া সম্ভব নয়।
অভিনেত্রীর হুঁশিয়ারি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যা খুশি তাই বলে পার পাওয়া যাবে না। আইন অনুযায়ী এই ধরনের আচরণ যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই সেই সমস্ত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় তিনি জনসমক্ষে আনবেন যারা নিয়মিত বিষোদ্গার করছেন। প্রয়োজনে তিনি সাইবার ক্রাইম শাখারও দ্বারস্থ হবেন।
অপরাজিতা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি, তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা নিয়ে। গুগল (Google) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এর মতো সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর জোরালো আবেদন, যাতে কুরুচিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং এ ধরনের বিষাক্ত অ্যাকাউন্টগুলো দ্রুত নিষিদ্ধ করা হয়।
সাম্প্রতিক এক ঘটনার উল্লেখ করে অপরাজিতা বলেন, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণের পর তাঁর পরিবার ও বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সরকারকে নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা অকল্পনীয়। তিনি ক্ষোভের সাথে প্রশ্ন তোলেন, “একজন স্বামীহারা নারী কাজে ফিরলে কী করে কেউ বলতে পারে যে শ্রাদ্ধ হওয়ার আগেই কেন কাজে ফিরল? এগুলো মতামত নয়, এগুলো সরাসরি মানসিক হিংসা।”
ডিজিটাল দুনিয়ায় সৌজন্যবোধ ফেরাতে অপরাজিতার এই প্রতিবাদী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীদের একাংশ। এখন দেখার, অভিনেত্রীর এই কড়া মনোভাব সাইবার অপরাধীদের মানসিকতায় কোনো বদল আনতে পারে কি না।
