প্যারিসে আটকে সন্দীপ্তা সেন, ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানালেন অভিনেত্রী
ইরানে হামলার পরই প্রত্যাঘাতে কাতার, কুয়েত, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হামলা করা হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইরান, ইজরায়েল যেমন নিজেদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দিয়েছে, তেমনই দোহা ও দুবাই বিমানবন্দরেও শয়ে শয়ে বিমান ইতিমধ্যেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অভিনেত্রীর বিমানও বাতিল হয়ে যায়।

আইফেল টাওয়ারের শহরে ডিনার হোক বা ফিনল্যান্ডের বরফে ঢাকা রাস্তা— গত কয়েকদিন ধরে অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেনের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল জানান দিচ্ছিল তাঁর স্বপ্নের ট্যুরের কথা। কিন্তু সেই স্বপ্নিল সফরই যে এমন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি অভিনেত্রী। বর্তমানে প্যারিসে আটকে পড়েছেন তিনি ও তাঁর স্বামী সৌম্য মুখোপাধ্যায়। বিদেশের মাটিতে কার্যত অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর।
কী ঘটেছিল ঠিক?
টেলিভিশন ও ওটিটির অতি পরিচিত মুখ সন্দীপ্তা সেন গত ১৮ তারিখ স্বামী সৌম্যর সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিলেন ইউরোপে। প্রথমে নরওয়ে এবং পরে ফিনল্যান্ডের সৌন্দর্য উপভোগ করে গতকালই তাঁরা পৌঁছেছিলেন প্যারিসে। পরিকল্পনা ছিল আজই ফ্লাইটে আবু ধাবি হয়ে ফেরার। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরানে হামলার পরই প্রত্যাঘাতে কাতার, কুয়েত, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হামলা করা হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ইরান, ইজরায়েল যেমন নিজেদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দিয়েছে, তেমনই দোহা ও দুবাই বিমানবন্দরেও শয়ে শয়ে বিমান ইতিমধ্যেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অভিনেত্রীর বিমানও বাতিল হয়ে যায়।
টিভি ৯ বাংলার তরফে সন্দীপ্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর গলায় ধরা পড়ে স্পষ্ট উদ্বেগের সুর। অভিনেত্রী জানান, এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের তরফে যে ধরনের সহযোগিতা আশা করেছিলেন, তা তাঁরা পাচ্ছেন না। সন্দীপ্তার কথায়, “ওরা কোনও ভাবেই আমাদের সাহায্য করছে না, ওরা ৫ তারিখের ফ্লাইট এর টিকিট কেটে দিয়েছে এবং বলেছে সব ঠিক থাকলে ৫ তারিখের ফ্লাইটেই আমরা ফিরতে পারব ৬ তারিখ পৌঁছব। অনেক ফ্লাইট দেখছি তবে ৫ তারিখের আগে কোনও ফ্লাইটের টিকিটই পাচ্ছি না। অপেক্ষা করা ছাড়া এখন আর কোনও উপায় নেই। যদি ৫ তারিখের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাই তাহলে খুব ভালো, নয়তো বেশ চিন্তার বিষয়।”
কেন বাড়ছে দুশ্চিন্তা?
প্যারিসের মতো শহর পর্যটকদের কাছে স্বর্গরাজ্য হলেও, সন্দীপ্তার কাছে এখন সময়ের কাঁটা থমকে যাওয়াটাই ভয়ের কারণ। কলকাতায় ফিরলেই তাঁর হাতে একগুচ্ছ কাজ রয়েছে। ওদিকে স্বামী সৌম্যরও অফিসের দায়িত্ব রয়েছে। সব মিলিয়ে পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং বিদেশের মাটিতে অনিশ্চয়তা— দুইয়ে মিলে বেশ চাপে রয়েছেন এই দম্পতি। আপাতত নেটপাড়া এবং সন্দীপ্তার অনুরাগীরা প্রার্থনা করছেন যেন দ্রুত জট কাটে এবং ৫ তারিখেই সুস্থ শরীরে শহরে ফেরেন তাঁদের প্রিয় অভিনেত্রী।
