বলিউড পেল নতুন ‘মধুবালা’! অনীত পাড্ডার কাঁধেই কি গুরুদায়িত্ব দিচ্ছে যশরাজ ফিল্মস?
মধুবালার জীবন ছিল অনেকটা রূপকথার মতোই, কিন্তু তাঁর জীবনের শেষের গল্প মন খারাপ করার মত। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে যখন তিনি চলে যান, তখন তাঁর কেরিয়ার মধ্যগগনে। ১৯৩৩ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর আসল নাম ছিল মমতাজ জাহান দেহলভী। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে ৯ বছর বয়সেই পা রেখেছিলেন ছবির জগতে।

সাদা-কালো পর্দার সেই মায়াবী হাসি, যাঁর চোখের এক ইশারায় একসময় থমকে যেত গোটা ইন্ডাস্ট্রি । তিনি মধুবালা। বলিউডের আকাশে এমন এক ধ্রুবতারা, যাঁর রূপের ছটায় আজও ফিকে হয়ে যায় বর্তমানের গ্ল্যামার। তাঁকে বলা হত ‘বলিউডের ভেনাস’, কেউ বা ডাকতেন ‘ভারতীয় সিনেমার মেরিলিন মনরো’। কিন্তু সেই জাদুকরী হাসির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক পাহাড়প্রমাণ যন্ত্রণা আর অকাল মৃত্যুর গল্প। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই বিষণ্ণ রাজকন্যার জীবনকাহিনি এবার পর্দায় ফেরার অপেক্ষায়। কে হবেন পর্দার মধুবালা? বিটাউনের অলিতে-গলিতে এখন একটাই নাম কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অনীত পাড্ডা।
বলিউডের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, ‘ডার্লিংস’ খ্যাত পরিচালক জসমিত কে রিনের এই স্বপ্নের প্রজেক্টে মধুবালার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সাইয়ারা খ্যাত অনীতকে। যদিও ‘যশরাজ ফিল্মস’ (YRF) আপাতত বিষয়টি নিয়ে কুলুপ এঁটেছে, তবুও সূত্রের খবর, পর্দার ‘মুঘল-এ-আজম’ সুন্দরীর জুতোয় পা গলাতে ইতিমধ্যেই সই সেরে ফেলেছেন অনীত।
মধুবালার জীবন ছিল অনেকটা রূপকথার মতোই, কিন্তু তাঁর জীবনের শেষের গল্প মন খারাপ করার মত। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে যখন তিনি চলে যান, তখন তাঁর কেরিয়ার মধ্যগগনে। ১৯৩৩ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রীর আসল নাম ছিল মুমতাজ জাহান দেহলভী। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে ৯ বছর বয়সেই পা রেখেছিলেন ছবির জগতে। ‘মহল’, ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ থেকে শুরু করে কালজয়ী ‘মুঘল-এ-আজম’— তাঁর অভিনয় আর সৌন্দর্যে বুঁদ ছিল গোটা দেশ। কিন্তু পর্দার বাইরে তাঁর জীবন ছিল নিঃসঙ্গতায় মোড়া। দিলীপ কুমারের সঙ্গে সেই অসফল প্রেম আর শেষ জীবনে হৃদযন্ত্রের জন্মগত ছিদ্র তাঁকে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছিল। শেষ কয়েকটা বছর বিছানায় শুয়েই দিন কেটেছে অভিনেত্রীর।
কেন অনীত পাড্ডা?
মধুবালার চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। তবে অনীত পাড্ডা কিন্তু গত কয়েক বছরে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ২০২২ সালে ‘সালাম ভেঙ্কি’-তে এক চিলতে অভিনয়ের পর ২০২৪-এর ওটিটি সিরিজ ‘বিগ গার্লস ডোন্ট ক্রাই’ তাঁকে লাইমলাইটে নিয়ে আসে। তবে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়েছে মোহিত সুরির ছবি ‘সাইয়ারা’। অহান পান্ডের বিপরীতে তাঁর সেই সাবলীল পারফরম্যান্সই হয়তো জসমিত কে রিনের মতো পরিচালকের নজর কেড়েছে।
মধুবালার জীবন ছিল সাফল্য আর বিয়োগান্তক ঘটনার এক অদ্ভুত কোলাজ। জসমিত কে রিনের পরিচালনায় সেই হারানো দিনগুলো কীভাবে ফিরে আসে, সেটাই এখন দেখার। নির্মাতারা বাকি কলাকুশলীদের নাম গোপন রাখলেও, অনীতের নাম সামনে আসতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তিনি কি পারবেন সেই কালজয়ী ‘আনারকলি’ হয়ে দর্শকদের মনে আবার ঝড় তুলতে? উত্তর সময় বলবে।
