‘আমরা কাজ না করলে খাব কী?’, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ নিয়ে মুখ খুললেন ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র বর্ণিনী
তিনি বলেন, “রাহুলদাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না, ওনার সঙ্গে কাজ হয়নি কখনও। কিন্তু ওনার চলে যাওয়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি। পার্সোনালি চিনতাম না, তবে আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে ওনার সম্পর্কে এত গল্প শুনেছি যে ওনার প্রতি একটা রেস্পেক্ট সারা জীবন থেকে যাবে। ওনার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা খুবই খারাপ একটি বিষয়।”

টলিউডে এখন একটাই নাম চর্চায়— ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’। কারণ এক বিষাদময় পরিণতি। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল মৃত্যু ও তার পরবর্তী ডামাডোলে কার্যত উত্তাল স্টুডিয়োপাড়া। রাহুল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ সিরিয়ালের শুটিং করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন, আর তার জেরেই শিল্পী ফোরাম ও টেকনিশিয়ান ফেডারেশনের যৌথ সিদ্ধান্তে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রযোজনা সংস্থা। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী বর্ণিনী চক্রবর্তী, যাঁকে নতুন করে সাজানো ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের জন্য কাস্ট করা হয়েছিল।
বর্ণিনী জানিয়েছেন, ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর এই প্রজেক্টে যখন তাঁকে ডাকা হয়েছিল, তখন বিষয়টি বেশ ধোঁয়াশায় ঢাকা ছিল। তিনি বলেন, “আমাকে ডাকা হয়েছিল নতুন কাজের জন্য। ম্যাজিক মোমেন্টসের তরফ থেকে ফোন এসেছিল যে একটা নতুন কাজ হবে, সেটার লুক সেট হবে। আমি যখন গেলাম, লুক সেট হল, — তখনও পর্যন্ত আমি ঠিক বুঝতেই পারিনি যে এটা কোন ধারাবাহিকের জন্য।” অর্থাৎ, বর্ণিনী প্রথম থেকেই জানতেন না যে তিনি আদতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র অংশ হতে চলেছেন। পরে তিনি জানতে পারেন যে এই পুরনো গল্পকেই নতুন মোড়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় না থাকলেও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় কোনও খামতি নেই বর্ণিনীর। তিনি বলেন, “রাহুলদাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম না, ওনার সঙ্গে কাজ হয়নি কখনও। কিন্তু ওঁর চলে যাওয়া আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি। পার্সোনালি চিনতাম না, তবে আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে ওঁর সম্পর্কে এত গল্প শুনেছি যে রাহুলদার প্রতি একটা সম্মান সারা জীবন থেকে যাবে। ওঁর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা খুবই খারাপ একটি বিষয়।”
বর্তমানে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সব কাজ বন্ধ। বর্ণিনী মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত আদতে শিল্পীদের সুরক্ষার জন্যই। তিনি বলেন, “ফোরাম থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা তো আমাদেরই সেফটি-সিকিউরিটির জন্য। ওখান থেকে একটা নোটিশ এসেছে আমাদের কাছে। আমাদের যদি ভবিষ্যতে ভালো হয়, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।”
একইসঙ্গে শ্যুটিং চলাকালীন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বর্ণিনী বলেন, “শ্যুটিং করতে গিয়েই তো এই ঘটনাটা ঘটেছিল। এবার ঘটনার সময় শ্যুটিং চলছিল কি না বা ঠিক কী হচ্ছিল, সেটা তো জানি না। তবে রাহুলদা চলে যাওয়ায় সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।”
শিল্পীদের রুটিরুজির লড়াইটাও যে অত্যন্ত কঠিন, তা বর্ণিনীর কথায় স্পষ্ট। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের কাজ করা নিয়ে তিনি অকপটে বলেন, “কাজ তো আমাদের সবারই করতে হবে। দিনশেষে আমরা কাজ না করলে খাব কী? তবে এখন যেমন নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে যথাযথ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত ম্যাজিক মোমেন্টসের সঙ্গে কাজ নয়, সেই অনুযায়ী আমরা সবাই চলছি। সঠিক তথ্যটা সামনে আসা জরুরি।”
বর্তমানে বর্ণিনী ‘জি’ বাংলার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, রাহুলের স্মৃতি ও টলিপাড়ার এই অচলাবস্থা তাঁকে ব্যথিত করেছে। এখন দেখার, রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়দের উপস্থিতিতে যে কড়া সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তা টলিউডের কাজের পরিবেশে কতটা সুরক্ষা নিয়ে আসে।
