‘সুন্দরবনে ঝড়ের মধ্যে কনীনিকাকে নৌকায় নামিয়ে…’, শুটিংয়ে গিয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতা ভাস্বরের
'জাস্টিস ফর রাহুল'-প্রতিবাদী মিছিলের পাশাপাশি আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে শুটিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এমনকী, মঙ্গলবার থেকে প্রতিবাদের রূপ হিসেবে কর্মবিরতিতে যাচ্ছে টেলিপাড়া। আর ঠিক সময়, সিরিয়ালের শুটিংয়ের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়।

তালসারিতে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যু অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাহুলের মৃত্যুর পরেই কাঠগড়ায় শুটিংয়ে নিরাপত্তা। প্রশ্ন উঠেছে, কেন সেদিন শুটিংয়ের সময় প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে কোনও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। কেন আগে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হয়নি। অনেকরই মত, সেদিন তালসারিতে যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর থাকত, তাহলে হয়তো অকালে মরতে হত না রাহুলকে।
‘জাস্টিস ফর রাহুল’-প্রতিবাদী মিছিলের পাশাপাশি আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে শুটিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে। এমনকী, মঙ্গলবার থেকে প্রতিবাদের রূপ হিসেবে কর্মবিরতিতে যাচ্ছে টেলিপাড়া। আর ঠিক সময়, সিরিয়ালের শুটিংয়ের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। কীভাবে সুন্দরবনে ঝড়ের মধ্যে কনীনিকাকে বিপাকে পড়তে হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথাই ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরলেন ভাস্বর।
কী লিখলেন অভিনেতা?
সোশাল মিডিয়ার পোস্টে ভাস্বর লিখলেন, ”২০০৫ এর কথা। আমি,কুনাল মিত্র,কণিনিকা ব্যানার্জী,প্রিয়া কারফা এবং দেবদূত ঘোষ সুন্দরবনে আউটডোরে যাচ্ছিলাম স্টিমারে। রাস্তায় বিরাট ঝড় ওঠে।তার মধ্যেই কনিকে জবিরদস্তি একটা নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয় শট এর জন্য। আমরা সবাই প্রতিবাদ করি,কনির মা কান্নাকাটি করেন কিন্তু পরিচালক কোনও কথা কানে তোলেন না। সেদিন কনির জীবন যেতে পারত।”
তবে এখানেই শেষ নয়, বিপাকে পড়েছিলেন খোদ ভাস্বরও। এই পোস্টেই আরেকটি শুটিংয়ের কথাও উল্লেখ করেন অভিনেতা। ভাস্বর জানান, ”এরপর সুন্দরবনে পৌঁছে আমাকে আর অর্পিতাদিকে নদীর পাড়ে সিন শুট করতে বলা হয়। শেষ হওয়ার পর লোকাল লোকেরা হইহই করে তেড়ে আসে,বলে ওখানে কামট থাকে। কে আপনাদের যেতে বলেছে? এরকম কত কিছু যে আমাদের সঙ্গে হয় ভাবনার বাইরে। তাই ঝড় একদিন না একদিন উঠতই,দুঃখের বিষয় যে রাহুলকে প্রাণ দিয়ে বোঝাতে হল।”
উল্লেখ্য, আগামী মঙ্গলবার থেকে টলিপাড়ায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে যাবতীয় শুটিং! রবিবার বিকেল পাঁচটার সময়ে আর্টিস্টস ফোরামের সদস্যরা পৌঁছে যান টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে। চলে আসেন প্রযোজকরা। তারই সঙ্গে উপস্থিত হল টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন চ্যানেলের প্রতিনিধিরাও। প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় থেকে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর উপস্থিতিতে শুরু হয় মিটিং।
