Uttam Kumar: উত্তমের থেকেও বেশি পারিশ্রমিক হেঁকেছিলেন ছবি বিশ্বাস! জানেন কোন ছবির সেট কাঁপিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?
Unknown facts of Uttam Kumar: গম্ভীর ও দরাজ ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর আর সাহেবি কেতায় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই এক রাজকীয় দাপট। নতুন কোনও পরিচালক তাঁর কাছে নতুন ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে যেতেও রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর সেই পরাক্রমের জোড়েই একবার এমন এক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন ছবি বিশ্বাস, যা সেই সময়কার নামীদামি ফিল্ম ম্যাগাজিনগুলোর শিরোনাম দখল করে নিয়েছিল।

সময়টা পাঁচের দশকের শেষ কিংবা ছয়ের সূচনা। বাংলা সিনেমার জগৎ তখনও ‘টলিউড’ নামে পরিচিতি পায়নি। তবে নায়ক, খলনায়ক এবং মেগাস্টার শব্দগুলোর সঙ্গে সিনেপাড়ার পরিচয় ঘটে গিয়েছে ততদিনে। আর সেই আমলেই টালিগঞ্জের একছত্র অধিপতি ছিলেন ছবি বিশ্বাস। গম্ভীর ও দরাজ ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর আর সাহেবি কেতায় পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই এক রাজকীয় দাপট। নতুন কোনও পরিচালক তাঁর কাছে নতুন ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে যেতেও রীতিমতো হিমশিম খেতেন। আর সেই পরাক্রমের জোড়েই একবার এমন এক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন ছবি বিশ্বাস, যা সেই সময়কার নামীদামি ফিল্ম ম্যাগাজিনগুলোর শিরোনাম দখল করে নিয়েছিল।
কী সেই ঘটনা, যা তৎকালীন বিনোদন জগতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল?
পুরনো ফিল্ম পত্রিকাগুলোর পাতা ওল্টালে পাওয়া যায় সেই ঘটনার তথ্য। শচীন মুখোপাধ্যায়, তরুণ মজুমদার ও দিলীপ মুখোপাধ্যায়— এই তিন তরুণ ও উৎসাহী পরিচালক যৌথভাবে সদ্য শুরু করেছেন তাঁদের ‘যাত্রিক’ পরিচালকগোষ্ঠী। আর এই ব্যানারের প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল ‘চাওয়া-পাওয়া’ সিনেমাটির মাধ্যমে। যে ছবির তারকা তালিকায় ছিলেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন এবং স্বয়ং ছবি বিশ্বাস।
শোনা যায়, ‘চাওয়া-পাওয়া’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে যখন ‘যাত্রিক’-এর তিন সদস্য প্রবীণ এই অভিনেতার দ্বারস্থ হন, তখন ছবি বিশ্বাস সোজা জানিয়ে দেন যে, এই কাজের জন্য দিনে ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিক দিতে হবে। তাঁর মুখে এই অঙ্কের কথা শুনে রীতিমতো কালঘাম ছুটতে শুরু করেছিল নবাগত তিন পরিচালকের। তাঁরা বিনীতভাবে নিজেদের নতুন ও অনভিজ্ঞ হওয়ার কথা জানালে, ছবি বিশ্বাস দয়া পরবশ হয়ে নিজের দৈনিক ফি ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকা করেন।
তবে সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ২৫০ টাকাও কিন্তু কোনও ছোট অঙ্ক ছিল না। এমনকী, পারিশ্রমিক কমানোর পরও, সেই ছবিতে উঠতি তারকা উত্তম কুমারের প্রাপ্ত পারিশ্রমিকের চেয়ে ছবি বিশ্বাসের পারিশ্রমিক অনেকটাই বেশি ছিল! প্রবীণ ও নবীনের এই অদ্ভুত সংযোগ এবং পারিশ্রমিকের তারতম্যের ঘটনা আজও বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় এক অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
