AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

বিষ খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা! দেবলীনার কোন ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এল?

পাড়া-পড়শি, আত্মীয়সজ্জনের গঞ্জনা শুনে শুনে ক্লান্ত। ঠিক সেই সময়ই কোনও উপায় না পেয়ে দেবলীনার মা এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, যা মনে করলে আজও কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবলীনা। জোশ টকে দেবলীনা জানান, তখন আমার সাত বা আট বছর বয়স।

বিষ খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা! দেবলীনার কোন ভয়ঙ্কর সত্য সামনে এল?
| Updated on: Jan 05, 2026 | 6:02 PM
Share

সোমবার সকাল থেকেই সোশাল মিডিয়া একেবারে তোলপাড় টলিপাড়ার জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দীর অসুস্থতার খবর নিয়ে। রটেছে, সংসারে অশান্তির জেরে নাকি আত্মহত্য়ার চেষ্টা করেছেন দেবলীনা। আর এই রটনার নেপথ্যে রয়েছে দেবলীনার নিজের করাই এক ফেসবুক লাইভ। যেখানে তিনি সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়েছে, স্পষ্ট বলেছেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু পারলাম না’। তারপরই ভাইরাল হয়, দেবলীনার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা একটি ছবি। তবে জানা গিয়েছে, আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন দেবলীনা।

ঠিক এই সময়ই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, দেবলীনার একটি পুরনো জোশ টকের ভিডিয়ো। যেখানে দেবলীনা তুলে ধরেছিলেন, তাঁর অতীতের কথা। কতটা কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল তাঁর শৈশব। তা জানিয়ে ছিলেন দেবলীনা। যে মাকে নিয়েই শশ্বুরবাড়িতে এখন নানা গঞ্জনা শুনতে হচ্ছে। সেই মা-ই কত কষ্টে দেবলীনা ও তাঁর ভাইকে বড় করেছে, তা তুলে ধরেছিলেন দেবলীনা।

জোশ টকে এসে দেবলীনা জানিয়ে ছিলেন, ২ বছর বয়স থেকে গান শেখা শুরু তাঁর। মায়ের ইচ্ছা ছিল গায়িকা হওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণ হয়নি। দেবলীনাই সেই স্বপ্নপূরণ করেছে। জোশ টকে দেবলীনা জানিয়ে ছিলেন, ”আমার তখন সাত বছর বয়স। বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা ভেবেছিলাম, সব শেষ। বাবাই একমাত্র একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন। কাজ করার ক্ষমতা ছিল না। আমার পড়াশুনো চলছিল, কোনওরমকে। বেড়ার বাড়িতে থাকতাম। প্রচণ্ড অর্থকষ্ট ছিল। ডাক্তার তো বলেই দিয়েছিল, বাবাকে বাঁচানো যাবে না। দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতাম। কোনও ফ্যামিলি মেম্বারদের হেল্প পায়নি। শুধুমাত্র ছোটমামা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি কৃষক মানুষ। চাষ করতেন। চাল ছিল না, ডাল ছিল না। কেউ একটা ম্যাগির প্যাকেট দিয়ে যাচ্ছে, ভাই ম্যাগিটা খাচ্ছে, আমি জল খাচ্ছি। কেউ মুড়ির প্যাকেট দিচ্ছে, আমি মুড়ি ভেজানো জল খাচ্ছি। মায়ের পেটে কোনও খাবার পড়ত না।

দেবলীনার বাবা যখন নানা রোগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। পাড়া-পড়শি, আত্মীয়সজ্জনরা পাশে তো দাঁড়াননি, উল্টে দেবলীনার মাকে শুনতে হত নানা গঞ্জনা। শুনতে হয়েছিল, মা নাকি ইচ্ছা করেই দেবলীনার বাবাকে মারতে চান! ঠিক সেই সময়ই প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায়, কোনও উপায় না পেয়ে দেবলীনার মা এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন, যা মনে করলে আজও কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবলীনা। জোশ টকে দেবলীনা জানান, তখন আমার সাত বা আট বছর বয়স। ভাইয়ের বয়স দুই-আড়াই বছর। মা বাড়িতে একটা বিষের শিশি নিয়ে এল। আমাকে বলল, সোনা মা একটা জিনিস খেতে দেব খাবি, সবাই একসঙ্গে ঘুমাবো। তোর বাবা তো হাসপাতালে, বাবাকে কিছু বলতে হবে না!

মায়ের অবদানে, মায়ের কঠোর পরিশ্রমেই এবং নিজের তাগিদে দুর্দিন থেকে সুদিন দেখেছেন দেবলীনা। বিয়েও করেছিলেন অনেক স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু এখন যে এমনটা ঘটবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি দেবলীনার অনুরাগীরাও। সোশাল মিডিয়ায় যে সুখের সংসার তুলে ধরতেন দেবলীনা, তার আসল রূপ এতটা ভয়ঙ্কর!

রবিবার রাতের লাইভ ভিডিয়োতে দেবলীনা তাঁর বর্তমান জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সমস্যা চলছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তাঁর মাকে নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে বিবাদ চরমে পৌঁছায়। গায়িকার অভিযোগ, একদিকে পেশাগত চাপ এবং অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয়জনদের সঙ্গে এই তিক্ততা তাঁকে মানসিকভাবে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিয়েছে। লাইভ চলাকালীন তাঁর চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট ধরা পড়ছিল, যা দেখে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর অনুগামীরা।

সূত্রের খবর, লাইভ শেষ করার কিছুক্ষণ পরেই গাড়ির মধ্যেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন গায়িকা। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেবলীনা বেশ কয়েকটি কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর জ্ঞান ছিল না। চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁর পাকস্থলী পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গায়িকা এখন স্থিতিশীল। পিজিতে ভর্তি রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল এবং অনুরাগীরা এই ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। গ্ল্যামার জগতের আড়ালে পারিবারিক বিবাদ কীভাবে একজন শিল্পীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে, এই ঘটনা আবারও সেই প্রশ্নটি তুলে দিল। তবে দেবলীনার স্বামী প্রবাহর তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।