AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘রাহুল অসৎ ছেলে!’ রাজের কথায় সেদিন ভীযণ দুঃখ পেয়েছিলেন অরুণোদয়, অভিনেতার মৃত্যুর পর কী বললেন রাজ চক্রবর্তী?

নায়ক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকার। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। এই তিনজনই তখন টলিউডে একেবারে নতুন। দুরন্ত গল্প, মন জয় করা গান আর দারুণ অভিনয়ে এই ছবি ব্লকবাস্টার। রাতারাতিই সেলেব তকমা পেয়ে যান বিজয়গড়ের সাধারণ বাড়ির ছেলেটি। এরপর ঠিক টলিউডে একের পর এক ছবি পেয়েছেন রাহুল। তবে প্রথম পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সেই সময় থেকেই দূরত্ব বেড়ে যায়। প্রায় দেখা সাক্ষাৎ, কথাবার্তা বন্ধ! রাজের একটি সাক্ষাৎকারই সেই দূরত্বের অনুঘটক। যেখানে রাজ, রাহুলকে অসৎ ছেলে বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। রাজের সেই সাক্ষাৎকার ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল রাহুলকে। পরিচালক সুব্রত সেনের পডকাস্ট 'মুখোমুখি'তে মনের কথা উজার করেছিলেন অভিনেতা।

'রাহুল অসৎ ছেলে!' রাজের কথায় সেদিন ভীযণ দুঃখ পেয়েছিলেন অরুণোদয়, অভিনেতার মৃত্যুর পর কী বললেন রাজ চক্রবর্তী?
| Updated on: Mar 31, 2026 | 2:14 PM
Share

রবিবার আচমকাই টলিউডে আছড়ে পড়ে রাহুলের মৃত্যুর খবর। স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এভাবে চলে যাবে চিরদিনের নায়ক, তা ভাবতেই পারেননি কেউ। থমকে যান রাজ চক্রবর্তীও। রাজের সঙ্গে রাহুলের সেই ‘তিক্ততা’র কথা ভুলেই, রাহুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে টিভি নাইন বাংলাকে রাজ জানিয়েছেন, ”রাহুলের এই খবরটা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় ক্ষতি হল। রাহুল একজন বড়মাপের অভিনেতা। আমি ওর সঙ্গে ২০০৮ সালে কাজ করেছিলাম। আমার প্রথম ছবি ছিল। রাহুলেরও প্রথম ছবি ছিল। ও খুব ভালো ছেলে ছিল। ব্রিলিয়ান্ট অভিনেতা ছিল। থিয়েটার করত, সিনেমা করত, টেলিভিশন করত। লেখালেখি করত, পড়াশুনো করত প্রচুর। খুবই ভালো একজন অভিনেতা ছিল। ” কিন্তু এই রাজের সঙ্গে প্রায় কথা বন্ধ ছিল রাহুলের। যে দুজন চিরদিনই তুমি যে আমার ছবির হাত ধরে টলিউডে পা রাখেন, সেই দুজনই পরবর্তীকালে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। নেপথ্যে ছিল রাজের একটি সাক্ষাৎকার।

সালটা ২০০৮। টলিউডে মুক্তি পায় দুরন্ত এক প্রেমের ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। নায়ক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নায়িকা প্রিয়াঙ্কা সরকার। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। এই তিনজনই তখন টলিউডে একেবারে নতুন। দুরন্ত গল্প, মন জয় করা গান আর দারুণ অভিনয়ে এই ছবি ব্লকবাস্টার। রাতারাতিই সেলেব তকমা পেয়ে যান বিজয়গড়ের সাধারণ বাড়ির ছেলেটি। এরপর ঠিক টলিউডে একের পর এক ছবি পেয়েছেন রাহুল। তবে প্রথম পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে সেই সময় থেকেই দূরত্ব বেড়ে যায়। প্রায় দেখা সাক্ষাৎ, কথাবার্তা বন্ধ! রাজের একটি সাক্ষাৎকারই সেই দূরত্বের অনুঘটক। যেখানে রাজ, রাহুলকে অসৎ ছেলে বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন। রাজের সেই সাক্ষাৎকার ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল রাহুলকে। পরিচালক সুব্রত সেনের পডকাস্ট ‘মুখোমুখি’তে মনের কথা উজার করেছিলেন অভিনেতা।

রবিবার আচমকাই টলিউডে আছড়ে পড়ে রাহুলের মৃত্যুর খবর। স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এভাবে চলে যাবে চিরদিনের নায়ক, তা ভাবতেই পারেননি কেউ। থমকে যান রাজ চক্রবর্তীও। রাজের সঙ্গে রাহুলের সেই ‘তিক্ততা’র কথা ভুলেই, রাহুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে টিভি নাইন বাংলাকে রাজ জানিয়েছেন, ”রাহুলের এই খবরটা আমাদের সবাইকে মর্মাহত করেছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় ক্ষতি হল। রাহুল একজন বড়মাপের অভিনেতা। আমি ওর সঙ্গে ২০০৮ সালে কাজ করেছিলাম। আমার প্রথম ছবি ছিল। রাহুলেরও প্রথম ছবি ছিল। ও খুব ভালো ছেলে ছিল। ব্রিলিয়ান্ট অভিনেতা ছিল। থিয়েটার করত, সিনেমা করত, টেলিভিশন করত। লেখালেখি করত, পড়াশুনো করত প্রচুর। খুবই ভালো একজন অভিনেতা ছিল। ”

ঠিক কী ঘটেছিল সেই সময়?

রাজের প্রথম ছবি চিরদিনই তুমি যে আমার অবশ্যই স্পটলাইট দিয়েছিল রাহুলকে। সেকথা কখনই অস্বীকার করেননি অভিনেতা। কিন্তু স্পটলাইটের নেপথ্যের অন্ধকার দিকের কথা, রাহুলই শুধু জানতেন বা বলা ভালো টের পেয়েছিলেন। আর তাই তো মুখোমুখি পডকাস্টে রাহুল স্পষ্টই জানিয়ে ছিলেন, ”শুধু সিনেমার সাফল্যটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ওই সিনেমার অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। তো চিরদিনই তুমি যে আমার যতটাই আমার কাছে প্রিয়, ততটাই কষ্টের। তা একেবারে রাজের ট্রিটমেন্টের জন্য। রাজের তো প্রথম ছবি– রাজ হয়তো চাপে ছিল বলে, ওমন ব্যবহার করেছিল। রাজের উপরও তো চাপ ছিল।”

তবে রাহুল সবচেয়ে বেশি আঘাত পান এক জনপ্রিয় খবরের কাগজে প্রকাশিত রাজের এক সাক্ষাৎকার পড়ে। যেখানে রাজ তাঁকে অসৎ তকমা দিয়েছিলেন। সুব্রত সেনের পডকাস্টে সেই সাক্ষাৎকারের কথা বলতে গিয়ে, রাহুল বলেছিলেন, ”রাজের কথা আমাকে খুব ডিসটার্ব করেছে। একবার কাউকে কাস্ট করে নিলে, তাঁকে বিশ্বাস করতে হয়। রাজ আমাকে কাস্ট করে ফেলেছিল, কিন্তু আমার উপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছিল নায়ক হিসেবে। ও আরেকটু গুডলুকিং, আরও একটু ভালো কেউ, এসব হয়তো চাইছিল, আমি জানি না। তারপর ছবিটা বের হওয়ার দুমাসের মধ্যেই একটি জনপ্রিয় পত্রিকায়, রাজ একটা সাক্ষাৎকার দেয়, যে রাহুলের মতো অসৎ ছেলে আর হয় না! রাজের এই সাক্ষাৎকারে খুবই এফেক্ট করেছিল আমার উপর। সেই নিউজ পেপার থেকেও পাল্টা আমাকে কখনও জিজ্ঞাসা করা হয়নি, যে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, তোমাদেরকে নিয়ে রাজ যেটা বলল, সেটার কী উত্তর রয়েছে তোমাদের তরফ থেকে। আমার প্রত্যেকদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মনে হত, সবাই জেনে গিয়েছে রাজ আমার সম্পর্কে যেটা বলেছে। আমার উপর খুব এফেক্ট করেছিল। তখন তো আমার কম বয়স। ২৩ বছর। তখন আমি মিডিয়া নতুন দেখছি।

তারপর সেটা মিটল না কেন? সুব্রতর প্রশ্নে রাহুলের একেবারে সোজা সাপটা জবাব, ”আসলে রাজের সঙ্গে তেমন কোনও কমন গ্রাউন্ড নেই। রাজের সঙ্গে কথা বলার মতো বিষয় নেই আমার। কারণ রাজ যেগুলো নিয়ে পড়়াশুনো করেছে, সেগুলো আমি জানি না। আবার আমি যেগুলো নিয়ে ইন্টারেস্টেড, রাজ সেগুলো নিয়ে নয়। আজকে আমি সৃজিতদার সঙ্গে বসে বা তোমার সঙ্গে বসে (সুব্রত সেন) অনেক কথা বলতে পারব, তাই আমারও কখনও উৎসাহ হয়নি যে বন্ধুত্বের সূত্রপাত হোক। কারও সঙ্গে কথা বলা মিস করলে তো ফের কথা বলব। আসলে আমি ওর সঙ্গে কথা বলাটা মিসই করি না। ও যাচ্ছে তাই বলে।আসলে আজকে রাজের সঙ্গে কথা না হওয়াটা খুব একটা মিস করি বা রাজের সঙ্গে কাজ না করাটাও যে আমি খুব একটা মিস করি। তা নয়। দিব্যি চলে যাচ্ছে। আজকে আমি অন্য কিছু করে কী করতাম। কী একস্ট্রা হতো। আমি তো, এমএলএ, এমপি হওয়ার লোক নই। এমএলএ এমপি নাই হলাম।”

টলিউডের কানঘুষোতে শোনা যায়, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সুপারহিট হওয়ার পর রাজ চক্রবর্তী নাকি তাঁর পরের ছবিতে কাস্ট করতে চেয়েছিলেন রাহুলকে। রাহুল রাজি হলেও, পরে রাহুল বাদ পড়েন। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কারও সেই ছবিতে থাকার কথা ছিল। শোনা যায়, রাহুলের বাদ পড়ার খবর শুনে, সেই ছবি থেকে সরে দাঁড়ান প্রিয়াঙ্কা। রাজের সেই ছবিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার পরিবর্তে নতুন এক জুটি অভিনয় করেন। সেই ছবিটিও সুপারহিট হয়। শোনা যায়, সেই বাদ পড়ার আক্ষেপও ছিল রাহুলের। তবে সেই নিয়ে কখনই স্পষ্ট কেউ কিচ্ছুটি কখনও বলেননি।

Follow Us