কাচ ভাঙলেই কি অমঙ্গল? বাস্তুশাস্ত্র বলছে অন্য কথা
অনেক সময় দেখা যায় ঘরের জানালার কাচ বা আলমারির আয়নায় কোনও কারণ ছাড়াই ফাটল ধরেছে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, এটি আসলে আসন্ন কোনও সৌভাগ্যের সঙ্কেত। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কোনও কাজ উদ্ধার হওয়া বা অর্থাগমের পথ প্রশস্ত হওয়ার আগে এমনটা ঘটতে পারে।

সকালবেলা তাড়াহুড়ো করে জল খেতে গিয়ে কাচের গ্লাসটা হাত থেকে ফসকে গেল? কিংবা ডাইনিং টেবিলের ওপরের কাচটা আচমকা চড়চড় করে ফেটে গিয়েছে? অনেকেরই প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়— ‘ইশ! নির্ঘাত কোনও অমঙ্গল আছে কপালে’। ছোটবেলা থেকেই অনেকে শুনে আসছেন, বাড়িতে কাচ ভাঙা নাকি ‘অমঙ্গল’। এমনকি অনেক সময় প্রিয় কোনও কাচের শোপিস ভেঙে গেলে অনেকে মন খারাপ করে বসে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে ঘটনাকে আপনি দুঃসংবাদ ভাবছেন, বাস্তুশাস্ত্রে তার ব্যাখ্যা একেবারে আলাদা?
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে কাচ বা আয়না ভেঙে যাওয়া মোটেও অশুভ নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরক্ষা কবজ’ হিসেবে কাজ করে। মনে করা হয়, বাড়িতে কোনও অশুভ শক্তি বা নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করলে কাচ বা আয়না তা নিজের মধ্যে শুষে নেয়। যখন সেই নেতিবাচকতার চাপ খুব বেশি হয়ে যায়, তখনই কাচটি ভেঙে যায়। অর্থাৎ, আপনার বা পরিবারের ওপর যে বড় কোনও বিপদ বা ‘ফাঁড়া’ আসার কথা ছিল, কাচটি তা নিজের ওপর নিয়ে আপনাকে রক্ষা করল। তাই কাচ ভাঙলে ভয় পাওয়ার বদলে ভাবুন, আপনার ঘর থেকে কোনও একটা অশুভ ছায়া বিদায় নিল।
অনেক সময় দেখা যায় ঘরের জানালার কাচ বা আলমারির আয়নায় কোনও কারণ ছাড়াই ফাটল ধরেছে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, এটি আসলে আসন্ন কোনও সৌভাগ্যের সঙ্কেত। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কোনও কাজ উদ্ধার হওয়া বা অর্থাগমের পথ প্রশস্ত হওয়ার আগে এমনটা ঘটতে পারে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যদি দীর্ঘদিনের তিক্ততা চলে, তবে হঠাৎ কাচ ভাঙা সেই বিবাদ মিটে গিয়ে সুসম্পর্ক ফেরার লক্ষণ হিসেবেও দেখা হয়।
তবে মনে রাখবেন, কাচ ভেঙে যাওয়া শুভ হতে পারে, কিন্তু সেই ‘ভাঙা কাচ’ ঘরে সাজিয়ে রাখা বা ফাটল ধরা আয়নায় মুখ দেখা চরম বাস্তুদোষ তৈরি করে। কাচ ভাঙার শব্দ হওয়ার সঙ্গেই কোনও কথা না বলে বা বিরক্তি প্রকাশ না করে দ্রুত সেই টুকরোগুলো পরিষ্কার করে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও ফেলে দিন। ভাঙা কাচ ঘরে জমে থাকলে তা থেকে নেতিবাচকতা ছড়াতে শুরু করে।
ঘর সাজানোর ক্ষেত্রেও একটু সচেতন হওয়া জরুরি। বাস্তু মতে, বাড়ির উত্তর বা পূর্ব দিকের দেওয়ালে আয়না রাখা সবচেয়ে শুভ। এতে ঘরে পজিটিভ এনার্জি বাড়ে। আর আয়নার আকার যদি চারকোনা হয়, তবে তা বাড়ির স্থায়িত্ব ও শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই এরপর থেকে গ্লাস বা আয়না ভাঙলে ‘অশুভ’ ভেবে ভয় না পেয়ে বরং নিশ্চিন্ত হোন— জানবেন বড় কোনও বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন আপনি!
