‘এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল…’, টিকিট না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন হিরণ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম পর্বের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। নাম বাদ গিয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের, যিনি খড়গপুরের বিধায়ক। কী প্রতিক্রিয়া তাঁর? TV9 বাংলাকে হিরণ জানালেন, ''দলের সিদ্ধান্তকে সব সময়ে স্বাগত জানাই। যাঁরা প্রার্থী হতে পারলেন, তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই।''

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম পর্বের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। নাম বাদ গিয়েছে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের, যিনি খড়গপুরের বিধায়ক। কী প্রতিক্রিয়া তাঁর? TV9 বাংলাকে হিরণ জানালেন, ”দলের সিদ্ধান্তকে সব সময়ে স্বাগত জানাই। যাঁরা প্রার্থী হতে পারলেন, তাঁদের শুভেচ্ছা জানাই।”
যেখানে পাঁচ বছর কাজ করলেন, সেখান থেকে নাম বাদ পড়ল, তাতে খারাপ লাগল না? হিরণের উত্তর, ”আমি তো নির্দল প্রার্থী ছিলাম না। বিজেপি-র প্রার্থী ছিলাম। বিজেপির একমাত্র বিধায়ক যিনি কাউন্সিলার। কাউন্সিলার ভোটে একমাত্র আমি জিতেছিলাম। বাকি কেউ জিততে পারেননি। সেজন্য আমার মনে হয় দল যখন যাঁকে যে দায়িত্ব দেয়, সেটা করা দরকার। আমাকে যখন ২০২১-এর ভোটে এখানে পাঠানো হয়, তখন খড়গপুর হেরে যাওয়া আসন ছিল। ৬৪০০০ মাইনাস ছিল। সেখানে আমি ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিলাম। দল দায়িত্ব দিয়েছিল, যাও হিরণ হারানো সিট জিতিয়ে নিয়ে এসো। এরপর কাউন্সিলার ভোটে সবুজ শিবিরের একজনকে হারিয়েছি, যাঁকে হারানো প্রায় অসম্ভব ছিল। অনেক বড় বিধায়ক বা সাংসদরা কিন্তু কাউন্সিলার নির্বাচনে হেরে যান। তারপর দল যখন ঘাটালে পাঠালো তিন মাস রোজ ৪০-৪২ কিলোমিটার করে হেঁটেছি। এবারও দল যেখানে দায়িত্ব দেবে সেখানে কাজ করব।” হিরণ যোগ করেন, ”এক বছর আগেই দল জানিয়ে দিয়েছিল খড়গপুরে টিকিট দেবে না। আমি তখনই ছেড়ে চলে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি কাজ করেছি, কারণ দলের প্রতি সম্মান রয়েছে।”
সামনে যে তালিকা আসবে, সেখানে কি আপনার নাম থাকবে ভোটে লড়ার জন্য? হিরণের বক্তব্য, ”আমি কী বললাম, দল দায়িত্ব দিয়েছিল খড়গপুরে জেতানোর। কিন্তু তা বলে কিছু আশা করা যায় না। কেউ কথা রাখে না, এমন তো নয়। সব সময়ে কথা রাখা যায় না। আর যাঁদের প্রশ্ন ছিল, সুপারস্টাররা বিধায়ক হলে বড়-বড় বাড়ি, গাড়ি করবে, আর দামি গাড়িতে করে এসে হাত নেড়ে চলে যাবে, তাঁদের ধারণা আমি ভাঙতে পেরেছি। এটা আমার সবথেকে বড় জয়। যে সাংবাদিকরা এত দিন বিরুদ্ধে লিখত, হিরণ নিখোঁজ, তাঁরা কাল থেকে বলছেন, ‘আপনি খড়গপুরে এত কাজ করলেন, তা-ও টিকিট পেলেন না?’ এই যে সাংবাদিকতার রং পালটে যায়, তা দেখে বোঝা যায়, ডায়নামিক্স বদলে যেতে থাকে। তাই যাঁরা আমাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমি আমার কাজকর্মের বিষয়টা খুবই ভালো বুঝি। আর যাঁরা খুব খুশি আমি খড়গপুরে টিকিট পাইনি বলে, যাঁরা আমার শত্রু, তাঁদের বলব, যত আমার নিন্দে করবেন, তত আমার জয় হবে। যত আমার সমালোচনা করবেন, তাতেই বুঝব, আমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
