AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Shahrukh Khan: ১৮ কোটির ‘মন্নত’ এখন ৩০০ কোটির! জানেন কীভাবে দাম বাড়ল শাহরুখের এই প্রাসাদের?

Shah Rukh Khan, Mannat: ‘ইয়েস বস’ সিনেমার বিখ্যাত গান ‘চাঁদ তারে তোড় লাঁউ’-এর শুটিং করার সময় ব্যান্ডস্ট্যান্ডের এই অসাধারণ বাংলোটি তাঁর নজর কেড়েছিল। তখন অবশ্য এর নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’। শুটিংয়ের সময় ওখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা শাহরুখকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। আর তখনই উঠতি এই তারকা মজার ছলেই শুটিং টিমকে বলেছিলেন, একদিন এই বাড়িটা তাঁরই হবে।

Shahrukh Khan: ১৮ কোটির ‘মন্নত’ এখন ৩০০ কোটির! জানেন কীভাবে দাম বাড়ল শাহরুখের এই প্রাসাদের?
| Updated on: Jul 16, 2026 | 5:07 PM
Share

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান আজ শুধু একজন অভিনেতা নন, কোটি কোটি মানুষের কাছে তিনি এক ভালোবাসার আবেগ। রোম্যান্স থেকে শুরু করে পর্দায় তাঁর রাজকীয় উপস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তদের উন্মাদনা— এই সবকিছুর পাশাপাশি কিং খানের তারকা খ্যাতির সমার্থক হয়ে উঠেছে তাঁর বিলাসবহুল প্রাসাদ ‘মন্নত’। একটা সময় মাত্র ১৮ কোটি টাকায় কেনা এই রাজপ্রাসাদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা!

বাদশাহর সেই স্বপ্নের বাড়ি ‘মন্নত’ ফের একবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই বিশালাকার ৬ তলা প্রাসাদের ওপর আরও দুটি নতুন তলা বা ফ্লোর নির্মাণের আইনি ছাড়পত্র পেয়েছে খান পরিবার। এর আগে এই অতিরিক্ত তলা নির্মাণের সবুজ সংকেতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court) সেই আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় মন্নতের ওপর নতুন দুটি ফ্লোর তৈরির ক্ষেত্রে সমস্ত আইনি বাধা কেটে গেল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই বড়সড় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে শাহরুখ খান সপরিবার মন্নত ছেড়ে সাময়িকভাবে বান্দ্রার পালি হিলসের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে স্থানান্তরিত হন।

শাহরুখ খানের এই স্বপ্নের বাড়ির বীজ বোনা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৭ সালে। ‘ইয়েস বস’ সিনেমার বিখ্যাত গান ‘চাঁদ তারে তোড় লাঁউ’-এর শুটিং করার সময় ব্যান্ডস্ট্যান্ডের এই অসাধারণ বাংলোটি তাঁর নজর কেড়েছিল। তখন অবশ্য এর নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’। শুটিংয়ের সময় ওখানকার নিরাপত্তারক্ষীরা শাহরুখকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। আর তখনই উঠতি এই তারকা মজার ছলেই শুটিং টিমকে বলেছিলেন, একদিন এই বাড়িটা তাঁরই হবে।

সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ২০০১ সালে। গুজরাটি ব্যবসায়ী নরিমান দুবাশের কাছ থেকে এই ঐতিহাসিক হেরিটেজ প্রপার্টিটি কিনে নেন শাহরুখ। এর আগে বাড়িটির মালিকানা ছিল ‘বাই খোরশেদ ভানু সঞ্জনা ট্রাস্ট’-এর। সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে সেলিব্রিটি ওয়েলথ ম্যানেজার দীপক হিরো ওয়াজিরানির বরাতে জানা গিয়েছে, তখন ১৮ কোটি টাকায় মন্নত কেনা হয়েছিল, যার বর্তমান মূল্য ৩০০ কোটি ছুঁয়েছে। শুরুতে শাহরুখের নাম রেখেছিলেন ‘জন্নত’, কিন্তু একের পর এক ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর নাম বদলে রাখেন ‘মন্নত’— অর্থাৎ এক পূরণ হওয়া মানত।

ইদ হোক বা কিং খানের জন্মদিন, হাজার হাজার ভক্ত ব্যান্ডস্ট্যান্ডে ভিড় জমান শুধু মন্নতের বারান্দায় বাদশার একঝলক দর্শন পাওয়ার জন্য। কিন্তু এই বিলাসবহুল প্রাসাদ কেনার পেছনের লড়াইটা সহজ ছিল না।

একদা এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ রসিকতার ছলে বলেছিলেন, “প্রচণ্ড কষ্ট করে, প্রচুর ধারদেনা করে আর একের পর এক বিজ্ঞাপনের কাজ করে এই বাড়ি কিনেছি। অজস্র বিয়েবাড়ি আর শোতে পারফর্ম করতে হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই ছিল বেশ অদ্ভুত। তবে নিজের মাথার ওপর একটা ছাদ পাওয়া আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারাটা দারুণ অনুভূতি। আমি দিল্লির ছেলে, সেখানে সবাই বাংলোতেই থাকত। তাই আমার কাছে এটা বড় কোনও ব্যাপার মনে হয়নি। মুম্বইয়ে এসে বুঝলাম, এখানে মানুষ মূলত ফ্ল্যাটে থাকেন এবং সেগুলোর আকাশছোঁয়া দাম। ফলে এই বাড়িটি কেনার জন্য টানা পাঁচ-ছয় বছর মানুষের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে এবং অনেক কম পারিশ্রমিকে তাঁদের কাজ করে দিতে হয়েছে।”

মন্নত কেনার আগে শাহরুখ ও গৌরী খান কার্টার রোডের ‘শ্রী অমৃত অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সাত তলার একটি থ্রি-বিএইচকে ফ্ল্যাটে থাকতেন। সেখানেই তাঁদের বড় ছেলে আরিয়ান খানের জন্ম হয়।

২০০১ সালে মন্নত কেনার পর এই বিশাল প্রাসাদকে একটি সুন্দর ‘হোম’ বা বাসস্থানে রূপ দেওয়ার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব গৌরী খানের। আর এই বাড়ি সাজাতে গিয়েই গৌরীর পেশাদার ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং কেরিয়ারের সূচনা হয়, যে পেশায় আজ তিনি অত্যন্ত সফল ও সমাদৃত।

প্রাসাদসম এই বাড়ি কেনার পর ভেতরের আসবাবপত্র কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তখন এই দম্পতির কাছে ছিল না। ফলে গৌরী নিজে উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে শুরু করেন, যাতে মন্নত কোনও মিউজিয়াম বা জাদুঘর না হয়ে একটি আরামদায়ক ও আধুনিক বাসস্থান হয়ে ওঠে। গৌরী এর অন্দরমহলে ইতালীয় ঘরানার ছোঁয়া এনেছেন, যা বাড়ির আবহকে উষ্ণ ও প্রাণবন্ত রাখে। মিলানের ‘সালোনে দেল মোবিল’, প্যারিসের ‘মেঁসো এ অবজে’র মতো আন্তর্জাতিক ডিজাইন ফেয়ার এবং লন্ডনের নামী বুটিক থেকে তিনি আসবাব ও নান্দনিক শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেছেন।

বাইরে থেকে মন্নত যেমন বহুতল বিশিষ্ট, এর ভেতরের সাজসজ্জাতেও রয়েছে নান্দনিকতার পরত। বাংলোর নিচের তলাগুলো মূলত তাঁদের প্রকাশ্য ও সামাজিক জীবনের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর ওপরের তলাগুলোতে বজায় রাখা হয়েছে খান পরিবারের গোপনীয়তা।

Follow Us