চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, প্রয়াত বাংলাদেশের কারাবন্দি গায়ক ও আওয়ামী লিগ নেতা প্রলয় চাকী
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সেই সময় অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রলয় চাকীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তখন থেকেই তিনি পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং আওয়ামী লীগ নেতা প্রলয় চাকী। গত রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং গত দুই বছর ধরে পাবনা জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
পাবনা জেলা কারাগারের সুপার ওমর ফারুক জানান যে, প্রলয় চাকী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার গভীর রাতে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন রবিবার রাত ৯টার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রলয় চাকীর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, কারাগারে থাকাকালীন তিনি সঠিক চিকিৎসা পাননি, যা তাঁর মৃত্যুকে ডেকে এনেছে। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তাঁর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি।
প্রলয় চাকী কেবল একজন জনপ্রিয় গায়কই ছিলেন না, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। সেই সময় অন্যান্য নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রলয় চাকীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং তখন থেকেই তিনি পাবনা জেলা সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। শিল্পী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রলয় চাকীর মৃত্যুতে তাঁর ভক্ত ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
