মমতার সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে? মুখ খুললেন রাজ চক্রবর্তী
ফের আরেকটা বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ঠিক এই সময়ই রাজনীতির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এই দূরত্বের কারণেই নাকি রাজ আর টিকিট পাবেন না! সত্য়িই কি তাই, নাকি গুঞ্জন।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতির মাঠে পা দিয়েছিলেন একঝাঁক টলি সেলিব্রিটিরা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, সেই সব সেলিব্রিটিদের মধ্যে প্রায় সবাই-ই রেকর্ড ভোটে নিজেদের আসন জয় করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম নাম হালিশহরের রাজু ওরফে টলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুরের আসনে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে পরিচালকের পাশাপাশি চর্চিত বিধায়কও হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২১-এর পর, ফের আরেকটা বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ঠিক এই সময়ই রাজনীতির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এই দূরত্বের কারণেই নাকি রাজ আর টিকিট পাবেন না! সত্য়িই কি তাই, নাকি গুঞ্জন। বিষয়টা জানতে টিভি নাইন বাংলা সরাসরি প্রশ্ন করে রাজ চক্রবর্তীকে। উত্তরে ঠিক কী বললেন ‘হোক কলরব পরিচালক?
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মানসিক দূরত্ব প্রসঙ্গে রাজ প্রথমেই বলেন, ”প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই সোশাল মিডিয়া জুড়ে একটা মনগড়া আলোচনা শুরু হয়। কে টিকিট পাবে, কে পাবে না তা নিয়ে এবং সেই আলোচনা নিয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়, অনেকেই এই ধারণাতে বিশ্বাসও করে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এতদিন আমি যে দায়িত্বটা পালন করেছি, সেটা সততার সঙ্গে করেছি। যে কটা মাসে আছে, সেটাই করে যাব এবং দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কখনও কোনও ভুল কাজ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। আসলে রাজনীতির মধ্যেও রাজনীতি রয়েছে। কেউ আমাকে পছন্দ করে, কেউ আমাকে পছন্দ করে না। তবে লড়ব কিনা, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, স্কোরবোর্ডটা ঠিক রাখাই গুরুত্বপূর্ণ। তারপর সুপ্রিমোরা ঠিক করবে, আমাকে টিকিট দেওয়া হবে কিনা। এই নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই আমি।”
২০২১ সালের নির্বাচনের আগে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। বিজেপি এই আসনটি জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী ছিল। তৃণমূল কংগ্রেস যখন রাজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে, তখন অনেকেই তাঁকে ‘বহিরাগত’ বা শুধুই ‘গ্ল্যামার সর্বস্ব’ প্রার্থী হিসেবে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তার উপর ব্যারাকপুর কেন্দ্রটি বিজেপির তৎকালীন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ‘গড়’ হিসেবে পরিচিত ছিল, ফলে লড়াইটি সহজ ছিল না। তবে রাজ চক্রবর্তী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হন। এই লড়াইয়ে রাজের উল্টোদিকে ছিলেন বিজেপির চন্দ্রমণি শুক্লা। বিধানসভার সেই লড়াইকে সঙ্গে নিয়ে ফের কি রাজ নতুন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত? তিনি কি ফের রাজনীতির মাঠে লড়তে চান? কী ভাবছেন ‘প্রলয়’ পরিচালক?
এর উত্তরে টিভি নাইন বাংলাকে রাজ জানান, ”আমি একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এখনই যদি আমি বলি, লড়তে চাই না বা লড়তে চাই, তাহলে সেটা মিথ্যা বলা হবে। আমি রাজনীতি করেই চলছি। আমার একটা সময়সীমা রয়েছে। সেটা শেষ হলেই জানতে পারব আমি ফের লড়াই করার জন্য যোগ্য কিনা। ”
