‘চিকিৎসা থেকে আমার সংসার চালানো সব ব্যবস্থাই করেছেন মমতা’, বঙ্গবিভূষণ পেয়ে প্রতিক্রিয়া জয় গোস্বামীর
শনিবার এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জয় গোস্বামী ছাড়াও সংস্কৃতি জগতের আরও বেশ কয়েকজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো হয়। বর্তমান সময়ের অস্থিরতায় জয় গোস্বামীর কবিতা আজও মানুষের মনে আশার আলো জ্বালায়। ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপ্তি তাঁর সেই দীর্ঘ ও বর্ণিল সাহিত্যযাত্রাকে আরও মহিমান্বিত করল।

বাংলা কবিতার মানচিত্রে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কলমে উঠে আসে সমকাল, প্রেম এবং প্রতিবাদের ভাষা। সেই প্রথিতযশা কবি জয় গোস্বামী-কেই এ বছর রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
‘পাগলী তোমার সঙ্গে’, ‘উন্মাদের পাঠক্রম’ কিংবা ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’— জয় গোস্বামীর প্রতিটি সৃষ্টিই বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কবিতার গদ্যধর্মী শৈলী এবং অনন্য শব্দচয়ন বাংলা আধুনিক কবিতাকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে। এর আগে তিনি আনন্দ পুরস্কার এবং সাহিত্য অকাদেমি সম্মানে ভূষিত হলেও, নিজ রাজ্যের এই সর্বোচ্চ সম্মান তাঁর দীর্ঘ সাহিত্য-সাধনার প্রতি এক বিশেষ স্বীকৃতি। রানাঘাটের এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই কবির জীবন এক সংগ্রামের রূপকথা। সেই সংগ্রামের ছাপ তাঁর কবিতাতেও স্পষ্ট।
বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেয়ে জয় গোস্বামী জানালেন, ”আমি অসুস্থ যখন তখন তিনবার আমার হাসপাতালে ভর্তির সব ব্যবস্থা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত দু বছর আগে থেকে আমি লেখা ছেড়ে দিয়েছি। আমার সংসার চালানোর ব্যবস্থা টুকুও করেছেন। উনি আমার থেকে বয়সে ছোট। তাও প্রণাম।” সাহিত্য অনুরাগী থেকে শুরু করে তাঁর অগণিত পাঠক সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন।
শনিবার এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জয় গোস্বামী ছাড়াও সংস্কৃতি জগতের আরও বেশ কয়েকজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো হয়। বর্তমান সময়ের অস্থিরতায় জয় গোস্বামীর কবিতা আজও মানুষের মনে আশার আলো জ্বালায়। ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপ্তি তাঁর সেই দীর্ঘ ও বর্ণিল সাহিত্যযাত্রাকে আরও মহিমান্বিত করল।
