১০ বছর পেরিয়েও অমীমাংসিত ‘আনন্দী’র মৃত্যু, প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল?
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই প্রথম দিনে যখন গোটা দেশ ‘এপ্রিল ফুল’ দিন পালন নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই খবর আসে প্রত্যুষা আর নেই। তাঁর লিভ-ইন পার্টনার রাহুল রাজ সিং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, পর মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের পালা।

ছোট পর্দার সেই মায়াবী চোখ আর স্নিগ্ধ হাসি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ‘বালিকা বধূ’ ধারাবাহিকের সেই ছোট্ট আনন্দী যখন বড় হয়ে পর্দায় এল, তখন প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে উঠেছিলেন বহুমানুষের ড্রয়িংরুমের ঘরের মেয়ে। কিন্তু ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। গোরেগাঁওয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল ২৪ বছরের এই অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ। আজ এক দশক পেরিয়ে এসেও প্রত্যুষার সেই রহস্যমৃত্যু আজও বিনোদন জগতের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায়।
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের সেই প্রথম দিনে যখন গোটা দেশ ‘এপ্রিল ফুল’ দিন পালন নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই খবর আসে প্রত্যুষা আর নেই। তাঁর লিভ-ইন পার্টনার রাহুল রাজ সিং তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, পর মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের পালা। প্রত্যুষার বাবা-মায়ের দাবি ছিল, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং সুপরিকল্পিত খুন।
প্রত্যুষার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর তৎকালীন প্রেমিক রাহুল রাজ সিংয়ের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠে। প্রত্যুষার পরিবারের পক্ষ থেকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ (আত্মহত্যায় প্ররোচনা), ৫০৪, ৫০৬ এবং ৩২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মুম্বই পুলিশের তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রত্যুষা সেই সময় চরম অবসাদে ভুগছিলেন। অভিযোগ ওঠে, রাহুল তাঁকে শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক— সব দিক থেকেই শোষণ করেছিলেন।
এমনকি আদালতের পক্ষ থেকে রাহুলের নিষ্কৃতির আবেদন নাকচ করে জানানো হয়েছিল যে, অভিনেত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে রাহুলের ভূমিকা ছিল। রাহুল অবশ্য বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছেন তাঁর মতে ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’র জন্য তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
প্রত্যুষার ১০তম মৃত্যুবার্ষিকীতেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহ-অভিনেতারা আজও চোখের জল ফেলেন। শশাঙ্ক ব্যাস থেকে শুরু করে তাঁর সহকর্মীরা আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতিচারণ করেন। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়— ১০ বছরেও কি বিচার পেলেন প্রত্যুষার পরিবার? মামলাটি এখনও বিচারাধীন। আইনি লড়াই চলছে দুই পক্ষেই।
